নিজস্ব প্রতিনিধি, দীঘা: প্রভু জগন্নাথ, বলরাম দেব এবং দেবী সুভদ্রার নব আলয়ে ‘কলিঙ্গ’ প্রভাব থাকবে না, এক কথায় অসম্ভব! সৈকতনগরী দীঘায় মহাপ্রভুর নব আলমের পরতে পরতে তাই কলিঙ্গ স্থাপত্যের প্রভাব স্পষ্ট। তবে বাংলার নিজস্ব স্থাপত্যকলার নমুনার মিশেলও রয়েছে মন্দির প্রাঙ্গণের আনাচে কানাচে। দীঘায় জগন্নাথদেবের অধিষ্ঠান পর্বকে সুচারু করতে পুরী থেকে এসেছেন রাজেশ দয়িতাপতি। তাঁর কথায়, আসলে দেশ তথা পৃথিবীর যে প্রান্তেই হোক না কেন, পুরী মন্দিরের প্রচলিত রীতি অনুসরণ করাটাই নিয়ম। তার অন্যথা হলে ঘাটতি হয় অধ্যাত্মবাদে, প্রভুর আরাধনায়। জগন্নাথদেবের একনিষ্ঠ ভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রচলিত সেই রীতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট সমস্ত আধিকারিককে। সোমবার নবনির্মিত মন্দির পরিদর্শন পর্বে তাই পুরীর ধাঁচে তৈরি গোপুরম (সিংহদুয়ার), পদ্মকুণ্ড, গোপুরম ২, ভোগমণ্ডপ, নাটমন্দির, জগমোহন, ভীমানা আর গোপুরম ৩ তৈরির বিবরণ শুনে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। মহাপ্রভুর প্রাণপ্রতিষ্ঠা আর দ্বারোদঘাটন বাকি, তাই মূল মন্দিরে প্রবেশ করেননি মমতা। তাঁর কথায়, ‘পুরীর জগন্নাথদেবের ভক্ত আপামর বাংলার মানুষ। ওড়িশায় জগন্নাথদেব রয়েছেন, আবার এখানেও অধিষ্ঠিত হচ্ছেন। বাংলার জন্য আনন্দের, গর্বের। এতদিন পর্যটন মানচিত্রে স্বমহিমায় উজ্জ্বল ছিল দীঘা। এবার সঙ্গে জগন্নাথদেবের নতুন ধাম—পর্যটক তথা ভক্তদের কাছে নয়া আকর্ষণ।’ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রাজ্য তথা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা আসছেন। তাঁদের থাকা, খাওয়া এবং যাতায়াতে কোনও অসুবিধা যাতে না হয়, তার জন্য সজাগ ও সচেষ্ট থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনকে।’ বৈশাখের দাবদাহের মধ্যে মহাপ্রভুর প্রাণপ্রতিষ্ঠা পর্বে মন্দির প্রাঙ্গণে আগত ভক্ত-পুণ্যার্থীদের মাথা ঢাকার জন্য নতুন গামছা বিলি করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘মাথাটা তো বাঁচানো যাবে।’



