নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: মালদহে শিক্ষক নিগ্রহের ঘটনা ব্যতিক্রমী। ওই ঘটনায় জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মালদহের ১১ জন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মুখে পড়তে চলেছে। শুক্রবার বীরভূম জেলার একাধিক পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য সেকথাই স্পষ্ট করলেন।
জানা গিয়েছে, পরীক্ষা শেষ হতেই ওই পরীক্ষার্থীদের সংসদে তলব করে শিক্ষক নিগ্রহের ঘটনায় তাদের জেরা করা হবে। এছাড়াও তাদের আচরণের উপরও নজর রাখা হচ্ছে। সেইসঙ্গে নির্দিষ্ট স্কুলের প্রধান শিক্ষককেও ডাকা হবে। তাঁকেও সংসদ সভাপতির প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে। তারপরই স্পষ্ট হবে ওই পরীক্ষার্থীদের কী ধরণের শাস্তি হতে চলেছে। অন্যদিকে সংসদ সভাপতি স্পষ্ট করেছেন, মাধ্যমিকের ফল ঘোষণার সাতদিন পরই উচ্চমাধ্যমিকেও রেজাল্ট প্রকাশ করা হবে। সংসদ সভাপতি বলেন, ওই পরীক্ষার্থীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে যাতে কেউ এমন ঘটনা না ঘটাতে পারে। তিনি বলেন, পরীক্ষা পরীক্ষার মতো হওয়া উচিত। না হলে পরীক্ষা নেওয়ার কোনও মানে হয় না।
টুকলি রুখতে গিয়ে বৈষ্ণবনগরের চামাগ্রাম হাই স্কুলে ছাত্রদের হামলায় দুই শিক্ষিকা সহ ছ’জন জখম হন। ঘটনায় ক্যামদিটোলা হাই মাদ্রাসার ১১ জন পরীক্ষার্থীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। বর্তমানে তাদের পৃথকভাবে পরীক্ষার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। সংসদের নির্দেশানুসারে তিন পরীক্ষকের নজরদারিতে তাদের পরীক্ষা চলছে। পরীক্ষা শেষে তাদের উত্তরপত্রও আলাদাভাবে প্যাকেট করা হচ্ছে। সামগ্রিক ঘটনায় স্পষ্ট ওই ১১ পরীক্ষার্থীর উপর সংসদ কড়া নজর রাখছে। অন্যদিকে, মালদহের ঘটনার পর থেকেই সংসদ আরও সূচারুভাবে সবটা পরিচালনা করতে চাইছে। প্রয়োজনে আগামীতে এধরনের ঘটনা প্রকাশ্যে এলে পুলিসি সহযোগিতা নেওয়া হতে পারে।
উত্তর ২৪ পরগনা সহ কলকাতার বেশকিছু পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনের পর মালদহ, উত্তর দিনাজপুর শেষে এদিন সংসদ সভাপতি বীরভূম জেলা পরিদর্শন করলেন। রামপুরহাট গার্লস হাই স্কুল, সিউড়ি মিউনিসিপ্যাল গার্লস হাইস্কুল সহ একাধিক পরীক্ষা কেন্দ্র ঘুরে দেখেন। জেলার উচ্চ মাধ্যমিকের যুগ্ম আহ্বায়ক অভিজিত্ নন্দন সহ ডিস্ট্রিক্ট অ্যাডভাইসারি কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। জেলার একাধিক পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সংসদ সভাপতি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, জেলায় সাড়ে চার শতাংশ শতাংশ পড়ুয়া অনুপস্থিত। মনে করা হচ্ছে, অসুস্থতা সহ নানা কারণে তারা পরীক্ষায় বসতে পারেনি। আশা করা হচ্ছে আগামীতে তারা পরীক্ষায় অংশ নেবে। তবে, সংসদ সভাপতির দাবি, এবছর অনুপস্থিতির হার অনেকটাই কমেছে।