নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: এসআইআরে নজরদারির চালানোর জন্য বিজেপি কুড়িয়ে বাড়িয়ে বুথ লেভেল এজেন্ট জোগাড় করেছিল। কিন্তু বাড়ি বাড়ি যাওয়া যে তাঁদের কাজ ছিল, তা তাঁরা করতে পারেননি। সোজা কথায়, খাতায়-কলমে এজেন্ট পেলেও পদ্মপার্টির নেতৃত্ব রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে ব্যর্থ। উল্টে এসআইআরের সমর্থকদের বাগানে ঢুকে কার্যত ফসল তুলে নিয়ে গেল তৃণমূল। ইনিউমারেশন ফর্ম বিলি শেষ হওয়ার পর বিজেপির হুগলি-চুঁচুড়া সাংগঠনিক জেলার অন্দরমহলে এ নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। নজরদারির প্রশ্নে ব্যর্থতা নিয়ে নেতৃত্বের যেমন আক্ষেপ রয়েছে, তেমনই নানা অজুহাত খোঁজার চেষ্টা চলছে। নেতৃত্বের একাংশ ঘরোয়া আলোচনায় স্বীকার করছেন, হুগলিতে তৃণমূলকে সাংগঠনিকভাবে টেক্কা দেওয়া দূরের কথা, তাদের মুখোমুখি দাঁড়ানোর পরিস্থিতিও তৈরি হয়নি।
দলের এক শীর্ষ নেতার আক্ষেপ, বিধানসভা ভোট সামনেই। এখনও যদি সাংগঠনিক পরিস্থিতি এমন থাকে, তাহলে ভোট করব কীভাবে? এসআইআর নিয়ে আমরা গলা ফাটালাম, অথচ তার রাজনৈতিক সুবিধা আমরা নিতে পারলাম না। উল্টে তা নিয়ে গেল শাসকদল। এটা খুবই লজ্জার। যদিও দলের সাংগঠনিক ত্রুটি এবং বিএলএ ২-এর বাড়ি বাড়ি না যাওয়ার ব্যর্থতাকে স্বীকার করছে না নেতৃত্ব। জেলার সাধারণ সম্পাদক সুরেশ সাউ বলেন, বিভিন্ন জায়গায় আমরা ক্যাম্প করেছি। আমাদের এজেন্টদের মানুষ ফোন করে ডেকে পরামর্শ নিয়েছেন। ফলে, যে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তাতে ত্রুটি ছিল না। তবে বলাগড়, ধনেখালি সহ একাধিক জায়গায় আমাদের এজেন্টরা আক্রান্ত হয়েছেন। তাতে কর্মীদের একাংশের মনোবল কিছুটা হলেও ভেঙে পড়েছিল। আমরা ক্যাম্প করে সেই পরিস্থিতি সামাল দিয়েছি। দলের সংগঠন মজবুতই আছে। নির্বাচনে তার প্রমাণ মিলবে। তৃণমূলের হুগলি জেলার চেয়ারম্যান তথা ধনেখালির বিধায়ক অসীমা পাত্র বলেন, নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে বিজেপি হামলার অভিযোগ তুলছে। যাতে বাড়ি বাড়ি যেতে না পারার দুর্বলতাকে তারা আড়াল করতে পারে। মানুষকে বোকা বানানো যে সোজা নয়, তা পদ্মপার্টি এখনও শিখল না।
নির্বাচন কমিশন বিএলওদের সঙ্গে এসআইআর কর্মসূচি পর্যবেক্ষণের জন্য রাজনৈতিক কর্মীদের রাখার নির্দেশ দিয়েছিল। দলীয় কর্মীদের প্রশাসনের কাছে নথিভুক্ত করে বাড়ি বাড়ি পাঠানোর উদ্যোগ নেয় হুগলির রাজনৈতিক দলগুলি। কিন্তু সেই কর্মী জোগাড় করতে গিয়ে লেজেগোবরে অবস্থা হয়েছিল বিজেপির। তারপরেও কিছু সংখ্যক কর্মী তারা জোগাড় করেছিল। কিন্তু নাগরিকদের বাড়ি বাড়ি যাওয়ার কাজ প্রায় হয়নি বললেই চলে। মূলত, সাংগঠনিক ব্যর্থতার কারণেই সেই কর্মীদের বাড়ি বাড়ি পাঠাতে পারেনি বিজেপি নেতৃত্ব। এ নিয়ে তেমন কোনও পরিকল্পনাও ছিল না তাদের। যদিও তৃণমূল নেতৃত্ব শুধু ১০০ শতাংশ বিএলএ-২ নিয়োগই করেনি, তাঁরা প্রায় প্রত্যেক বাসিন্দার দোরগোড়ায় গিয়েছেন। যা বিজেপির কাঁটা ঘা’য়ে নুনের ছিটে দিচ্ছে। কার্যত কিল খেয়ে কিল হজম করার পর এখন অজুহাত খুঁজতে হচ্ছে পদ্মপার্টিকে।