নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: রূপনারায়ণ নদে ভেসে আসছিল একটি খড়্গ আর হাঁড়িকাঠ। মহিষাদলের কেশবপুর গ্রামের মাইতিপল্লির গৃহকর্তা এনিয়ে স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন। তাঁর পারিবারিক দুর্গাপুজোয় সেই হাঁড়িকাঠ ও খড়্গ দিয়েই পাঁঠাবলি দেওয়া শুরু হয়। আজও সেই রীতি চালু রয়েছে। মাইতিপল্লির পুজোর ইতিহাস ৩৩০বছরের পুরানো। কিন্তু, ভেসে আসা খড়্গের কাহিনির ইতিহাস একশো বছরের প্রাচীন। প্রায় দু’ফুট লম্বা ওই খড়্গ একবারও কামারশালায় নিয়ে যাওয়া হয়নি। অথচ, সেটা দিয়েই প্রতি বছর পুজোর সময় পাঁচ কিংবা তারও বেশি পাঁঠাবলি দেওয়া হয়। মাইতিদের পারিবারিক পুজোয় মহাসপ্তমীতে একটি, সন্ধিপুজোয় দু’টি এবং মহানবমী তিথির পুজোয় একটি পাঁঠাবলি দেওয়া হয়।
মহিষাদল ব্লকের কেশবপুর গ্রামে মাইতিপল্লির পারিবারিক পুজো ইতিহাস শুরু হয় ১১০৩বঙ্গাব্দ থেকে। জানা যায়, হুগলির পায়রাটুঙ্গি গ্রামের রাজা শচীন্দ্রনাথ সান্যাল কেশবপুর গ্রামের ওই পরিবারের পূর্বসূরিকে পুজোর জন্য চার একর ৮৮ডেসিমল জমি দান করেছিলেন। সম্ভবত মহিষাদল রাজ পরিবারের দূরসম্পর্কের কোনো আত্মীয় ছিলেন হুগলির ওই রাজ পরিবার। সেইমতো ১১০৩বঙ্গাব্দ থেকেই কেশবপুর গ্রামে প্রতিমা গড়ে পুজো শুরু হয়। এখন মায়ের পাকাপোক্ত মন্দির তৈরি হয়েছে। সেখানেই প্রতিমা তৈরি হয়। নির্ঘণ্ট মেনেই পুজো হয়। মায়ের কাছে কেশবপুর গ্রামের মাইতি পরিবারের ১৪টি শরিকের পক্ষ থেকে মহাসপ্তমী, সন্ধিপুজো এবং মহানবমীর পুজোর সময় বলি দেওয়া হয়।
বর্তমানে মাইতি পরিবারের মোট ১৪টি শরিক রয়েছে। সকলে একযোগে পুজোয় শামিল হন। খড়্গ মাহাত্ম্যের কারণে পুজোর সময় দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা আসেন। কেউ কেউ পাঁঠাবলিও দেন। প্রায় একশো বছর আগে নদীতে খড়্গ ভেসে আসা এবং স্বপ্নাদেশ পাওয়ার সেই অলৌকিক ঘটনা ঘটেছিল বলে মাইতি পরিবারের স্বপনবাবু জানান। রূপনারায়ণ নদ থেকে পুজোর ঘট তোলা হয়। সেই ঘাটে এসে ঠেকেছিল প্রায় দু’ফুট লম্বা ওই খড়্গ এবং হাঁড়িকাঠ। স্বপ্নাদেশ পেয়ে সেটি তুলে আনেন স্বপনবাবুদের পূর্বসূরি। তারপর সেই খড়্গকে পুজো করা শুরু হয়।
স্বপনবাবু বলেন, আমাদের পরিবারিক পুজোর ইতিহাস ৩৩০বছরের। হুগলির পায়রাটুঙ্গি গ্রামের রাজ পরিবার পুজোর জন্য জমি দান করেছিল। তারপর থেকেই এখানে পুজো হয়। তবে, জমির থেকেও মায়ের বড় সম্পত্তি হল ওই খড়্গ। প্রায় একশো বছর ওই খড়্গ একবারও কামারশালায় নিয়ে যাওয়া হয়নি। ভেসে আসা হাঁড়িকাঠেই এখনো পাঁঠাবলি দেওয়ার রীতি চালু রয়েছে।



