অগ্নিভ ভৌমিক, কৃষ্ণনগর: নদীয়া জেলার পরিষদের আনাচে-কানাচে কান পাতলেই শোনা যেত ‘সিক্স পার্সেন্ট কমিশন’! নতুন বোর্ড গঠনের পর থেকেই পরিষদ ভবনের ইট-পাথরও নাকি বলতে শুরু করে এমন কথা! এবার সেই ‘কথা’কেই কার্যত মান্যতা দিয়ে বসলেন কৃষ্ণনগর লোকসভার সাংসদ তথা কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি মহুয়া মৈত্র। মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেন তিনি। সেখানে জেলা পরিষদের এই প্যাকমানির কথা উল্লেখ করে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন। বিজেপির কটাক্ষ, তৃণমূল জমানায় জেলা পরিষদের বোর্ডে বেনজির ‘কমিশন প্রথা’র কথা স্বীকার করেছেন স্বয়ং দলের সভাপতি। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, সেই বোর্ডের সভাধিপতি হলেন মহুয়ার ছায়াসঙ্গী তারান্নুম সুলতানা মির। বিষয়টি নিয়ে অবশ্য সভাধিপতির কোনোও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বিজেপির মুখপাত্র সন্দীপ মজুমদার বলেন, ‘তৃণমূলের নদীয়া জেলা পরিষদ বকলমে মহুয়া মৈত্র চালাতেন। এখন উনিই সদস্যদের দিকেই আঙুল তুলছেন। এতদিন পর কেন সততার উদয় হল? এর পিছনে নিশ্চয়ই কোনো অভিসন্ধি রয়েছে। জেলা পরিষদ থেকে কোটি কোটি টাকা সভাধিপতির মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়েছে। সেই সোনার খনি ওঁর হাত বেরিয়ে যাচ্ছে। এটা উনি মানতে পারছেন না।’ রাজনীতিতে মহুয়া মৈত্র এবং বিতর্ক সমার্থক। অতীতে রাজ্য কিংবা জাতীয় রাজনীতিতে একাধিক বিতর্কে জড়িয়েছেন তিনি। তবে, পালাবদলের পর তৃণমূলের যখন ‘গৃহদাহ’ চলছে তখন মহুয়া অবশ্য শিকড়ের সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছেন। একবগ্গা আক্রমণ শানিয়ে যাচ্ছেন বিদ্রোহীদের। এপর্যন্ত ঠিকই ছিল। কিন্তু আচমকা এদিন ওই পোস্ট করে ফের নতুন বিতর্কে জড়ালেন বলে রাজনৈতিক মহলের মত। মহুয়া রাখঢাক না করেই পোস্টে লিখেছেন,‘করিমপুরের এক নেত্রী ফোনে আফসোস করছেন যে, কোনো একটা ৬ পার্সেন্ট কমিশনের এর ভাগ তাঁকে দেওয়া হয়নি।’ পোস্টটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ে। সেই সঙ্গে বিতর্কের ঝড়ও তোলে। কারণ বছর দুই আগেই জেলা পরিষদের প্রায় ৩৫ জন সদস্য এই কমিশন নিয়ে সভাধিপতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। চিঠি পাঠিয়েছিলেন তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্বের কাছে। তখন মধ্যস্থতা করে বিষয়টি মিটিয়ে নিতে দেখা গিয়েছিল মহুয়াকে। রাজনৈতিক মহলের দাবি, সাংসদ করিমপুরের নেত্রীর কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়ে জেলা পরিষদে ‘কমিশন প্রথা’র বাস্তবতাকে ঘুরিয়ে স্বীকার করে নিলেন। জেলা পরিষদের বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম মুখ তথা মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ প্রণয়কুমার ঘোষচৌধুরী বলেন, ‘এই বিষয়টাই আমরা লিখিতভাবে রাজ্য নেতৃত্বকে জানিয়েছিলাম। তখন কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এখন উনি দলকে কালিমালিপ্ত করছেন।’
সম্প্রতি জেলা পরিষদের ২৭ জন সদস্য মহুয়া ঘনিষ্ঠ সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছেন। তারপরেই মহুয়া একটি ভিডিও বার্তায় জানিয়েছিলেন, বিদ্রোহী শিবিরের জেলা পরিষদের সদস্যরা ১০ লক্ষ টাকা করে চেয়েছেন অনাস্থা তুলে নেওয়ার জন্য। মঙ্গলবারও তিনি সেটাই পরিস্কার করে জানিয়েছেন, বারবাকপুরের কোনো এক নেত্রীর স্বামী নাকি ফোনে বলেছেন, করিমপুরের ৮ জন জেলা পরিষদ সদস্যকে ১০ লক্ষ করে দিলেই নাকি অনাস্থা তুলে নেবেন। তারপরেই কমিশন সংক্রান্ত পোস্ট করে মহুয়া বিতর্ক জিইয়ে রাখলেন বলে মনে রাজনৈতিক মহল।