Bartaman Logo
১৪ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কর্মীদের ‘থ্রেট’ করার প্রতিবাদ, কড়া ভাষায় আক্রমণ মহুয়া মৈত্রের

কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তৃণমূল কর্মীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলে কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার ভীমপুর থানার বিরুদ্ধে সরব হলেন কৃষ্ণনগর লোকসভার সাংসদ তথা কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভানেত্রী।

কর্মীদের ‘থ্রেট’ করার প্রতিবাদ, কড়া ভাষায় আক্রমণ মহুয়া মৈত্রের
  • ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: ভোটের আগেই পুলিশের সঙ্গে বেনজির সংঘাতে জড়ালেন মহুয়া মৈত্র। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তৃণমূল কর্মীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলে কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার ভীমপুর থানার বিরুদ্ধে সরব হলেন কৃষ্ণনগর লোকসভার সাংসদ তথা কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভানেত্রী। সোমবার তিনি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে এই নিয়ে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেন। ভিডিয়োটি সামনে আসতে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সোমবার ওই ভিডিয়ো বার্তায় মহুয়া অভিযোগ করেন, গত রবিবার বিকেল সাড়ে চারটে থেকে পাঁচটার মধ্যে ভীমপুর থানার একাধিক পুলিশকর্মী প্রায় ২৫-৩০ জন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানকে সঙ্গে নিয়ে গোবরাপোতা গ্রামের ২২২ নম্বর বুথ এলাকায় তৃণমূল কর্মীদের বাড়ি বাড়ি যান। তাঁর দাবি, কর্মীরা বাড়িতে না থাকলে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিয়ে বলা হয়—পরদিন যেন সংশ্লিষ্ট বুথকর্মীরা বাড়ি থেকে না বেরোন, অন্যথায় তাঁদের ‘তুলে নেওয়া’ হবে। হুঁশিয়ারি দিয়ে মহুয়া মৈত্র বলেন, ‘কোন পুলিশ অফিসার নির্বাচন কমিশনের পুতুল হয়ে এই কাজ করছেন, তা আমরা জানি। ইতিমধ্যেই হাই কোর্টে গিয়ে স্থগিতাদেশ পেয়েছি। এরপরও যদি কেন্দ্রীয় বাহিনী বা পুলিশ বাড়ি বাড়ি গিয়ে আমার কর্মীদের ভয় দেখায়, তবে সরাসরি হাই কোর্টে গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে মামলা করব।’ তিনি আরও দাবি করেন, ‘আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ৩০ মের আগে এ ধরনের অভিযান বা গ্রেপ্তার করার কোনো অধিকার পুলিশের নেই। একজন কর্মীর বাড়িতেও যদি যান, তার ভিডিয়ো প্রমাণ আমার কাছে রয়েছে। আদালতে গিয়ে সব তুলে ধরব।’ পাশাপাশি কমিশনের অঙ্গুলি হেলনেই বুথ স্তরের কর্মীদের ভয় দেখিয়ে নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

Advertisement

প্রসঙ্গত, এর আগের দিন অর্থাৎ রবিবারও তৃণমূল নেতাদের দিয়ে মুচলেকা লেখানোর অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিলেন মহুয়া মৈত্র। তখনও তিনি ভিডিয়ো পোস্ট করে দাবি করেছিলেন যে, বুথে স্তরের তৃণমূল নেতাদের কাছে ভোটে অশান্তি না করার জন্য মুচলেকা লিখিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ধারাবাহিকভাবে প্রশাসনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ সামনে আসায় রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
যদিও পুলিশের দাবি, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই নানা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এমনকী কেউ আইন অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ারও বার্তা দেওয়া হয়েছে পুলিশের তরফ থেকে। ভোট মরশুমে প্রত্যন্ত এলাকায় গ্রামের মানুষের ‘কনফিডেন্স বিল্ড’ করতে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের নিয়মিত রুট মার্চ চলছে। কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার তরফে ইতিমধ্যেই ৪৮ জন ‘ট্রাবল মেকার’-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।‌
কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির মুখপাত্র সন্দীপ মজুমদার বলেন, শান্তিপূর্ণ, অবাধ নির্বাচন করতে কমিশন এবার কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে। পুলিশ নির্বাচন কমিশনের বাইরে নয়। পুলিশও চাইছে পরির্বতন হোক।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ