নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এবার থেকে স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গেই সম্পৃক্ত হয়ে যাচ্ছে মাদ্রাসা শিক্ষা কমিশন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে এই ঘোষণা করেছেন। এর আগে সংখ্যালঘু ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুও এই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এবার মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় বিষয়টিতে সিলমোহর পড়ল। নিয়োগের দীর্ঘসূত্রিতা রুখতে এবং স্বচ্ছতা আনতে এই সিদ্ধান্ত বলে জানা যাচ্ছে। এ নিয়ে দ্রুত বিলও আসার কথা। যদিও, এই ঘোষণায় বেশকিছু প্রশ্নও রয়ে গিয়েছে।
মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া বারবার আইনি জটিলতার মুখে পড়েছে। কমিশনের আইনি বৈধতাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। শিক্ষাকর্মী নিয়োগের বিষয়টি দীর্ঘ আটবছর আইনি বাধার মুখে আটকে রয়েছে বলে সূত্রের খবর। তবে, গতবছর দু’হাজারের কাছাকাছি সহ-শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। তবে, নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিয়মিতকরণের জন্য স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমেই মাদ্রাসাগুলির শূন্যপদ পূরণের কথা ভাবছে সরকার। তবে, মাদ্রাসা নিয়ে বিজেপি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরা বিভিন্ন নেতিবাচক মন্তব্যও করেছেন। তাই এর পিছনে অন্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও দেখছে ওয়াকিবহাল মহল।
অনেকেই বলছেন, কম বেশি ৬৭০টি মাদ্রাসার শিক্ষকদের মধ্যে অধিকাংশই হিন্দু। ফলে, মাদ্রাসার সঙ্গে ইসলামি জঙ্গিযোগের যে কথা বলা হয়, তা ঠিক নয়। বিশেষ করে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত মাদ্রাসাগুলির নজরদারি, সিলেবাস তৈরি এবং পরীক্ষাগ্রহণ—সবই সরকারের তত্ত্বাবধানে হয়। পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি সুফিয়ান পাইক বলেন, ‘বিভিন্ন ঝামেলা এড়াতে মাদ্রাসাগুলিকে স্কুলশিক্ষা দপ্তরের অধীনে আনলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে সাচার কমিটির রিপোর্টে, সংখ্যালঘু, বিশেষ করে মুসলমানদের আরও বেশি করে সরকারি চাকরিতে আনার সুপারিশ ছিল। মাদ্রাসাগুলির সংখ্যালঘু তকমা চলে গেলে সেই প্রক্রিয়াও ব্যাহত হবে। কারণ, মাদ্রাসার নিয়োগে কোনো সংরক্ষণ নেই। ১০০ পয়েন্ট রোস্টার মেনে এখানে নিয়োগ হয় না। হিন্দু, মুসলমান বা যেকোনো ধর্মের, যেকোনো জাতিগত পরিচয়ের প্রার্থীই এখানে জেনারেল ক্যাটিগরিতে বিবেচিত হন। স্কুল সার্ভিস কমিশনের অধীনে আনলে সেটা তো সম্ভব হবে না।’
আরও কিছু প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে। সুফিয়ান সাহেবের বক্তব্য, ইসলাম ছাড়াও অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদেরও বেশকিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তারা নিজেরাই শিক্ষক নিয়োগ করে। সরকারি অনুদানও পেয়ে থাকে। বেশকিছু সংখ্যাগুরু মিশনও শিক্ষক নিয়োগের স্বাধীনতার সঙ্গে সরকারি অনুদান পায়। তাহলে সংবিধানের আর্টিকেল ৩০ উপেক্ষা করে কেন মাদ্রাসাগুলিকেই শুধুমাত্র এই স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা হবে? অনেকেরই আশঙ্কা, এটা কার্যকর করা হলে মামলা হতে পারে। সেক্ষেত্রে মাদ্রাসার শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মী নিয়োগই পিছিয়ে যাবে। আখেরে ক্ষতিগ্রস্ত হবে মাদ্রাসার পড়ুয়ারাই।