Bartaman Logo
১৩ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

খড়্গপুর সদরে সিপিএমের চমক মধুসূদন, ভোটের ময়দানে সাধাসিধে জীবনেই অভ্যস্ত পার্টির হোলটাইমার

পার্টিই তাঁর জীবন, সংসার সবকিছু। পার্টিকে ভালোবেসেই জীবনের ৬২টা বসন্ত পার করে দিয়েছেন ‘হোল টাইমার’ মধুসূদন রায়। তাঁর সকাল শুরু হয় বাড়িতে বাড়িতে পার্টির মুখপত্র পৌঁছে দিয়ে।

খড়্গপুর সদরে সিপিএমের চমক মধুসূদন, ভোটের ময়দানে সাধাসিধে জীবনেই অভ্যস্ত পার্টির হোলটাইমার
  • ৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১৪:০৪
Prefer us on Google

মণিরাজ ঘোষ, খড়্গপুর: পার্টিই তাঁর জীবন, সংসার সবকিছু। পার্টিকে ভালোবেসেই জীবনের ৬২টা বসন্ত পার করে দিয়েছেন ‘হোল টাইমার’ মধুসূদন রায়। তাঁর সকাল শুরু হয় বাড়িতে বাড়িতে পার্টির মুখপত্র পৌঁছে দিয়ে। আর দিনের বেশিরভাগ সময়টা কাটে পার্টি অফিসেই। পার্টি অন্ত প্রাণ মধুসূদনবাবুকেই এবার খড়্গপুর সদর বিধানসভা আসনে প্রার্থী করে চমক দিয়েছে সিপিএম। অনেক বড় বড় নাম এড়িয়ে অকৃতদার মধুসূদনেই সিলমোহর দিয়েছে আলিমুদ্দিন। রেল শহরে তাঁর লড়াই আবার বিজেপির দিলীপ ঘোষ, তৃণমূলের প্রদীপ সরকারের মতো বড় নামের বিরুদ্ধে। যদিও মধুসূদনবাবু বলেন, ব্যক্তি বড় নয়, আমাদের লড়াই নীতি ও আদর্শের। আমরা মানুষের কাছে যাচ্ছি, কী পেয়েছেন আর আমাদের জেতালে কী করব, সেই বার্তা নিয়ে।

Advertisement

খড়্গপুর শহরের সুভাষপল্লি এলাকার বাসিন্দা মধুসূদনবাবু। বিষয় আশয় বলতে কেবল পৈত্রিক বাড়িটুকু। দুই ভাইয়ের সঙ্গে সেই বাড়িতেই থাকেন তিনি। মধুসূদনবাবু জানান, ১৯৮৫ সালে বাম ছাত্র রাজনীতি দিয়েই তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু। তারপর সিপিএমের যুব সংগঠনের সদস্য হন। বর্তমানে তিনি সিপিএমের খড়্গপুর শহর পশ্চিম এরিয়া কমিটির সম্পাদক। দলের জেলা কমিটির সদস্যও। ২০০০ সাল থেকে সিপিএম পার্টির হোল টাইমার হিসেবে কাজ করে চলেছেন তিনি। কোভিডের সময়ে বাড়িতে বাড়িতে ওষুধ, অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছে দিয়ে মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। এহেন মধুসূদনবাবুকে খড়্গপুর সদরের প্রার্থী করে আলিমুদ্দিন চমক দিয়েছে এবার।
সাইকেলের পিছনে পার্টির মুখপত্র বোঝাই করে সাত সকালেই সুভাষপল্লি, খরিদা এলাকার মানুষের দুয়ারে পৌঁছে যাচ্ছেন তিনি। মিষ্টি হেসে সেরে নিচ্ছেন জনসংযোগ। তারপর পার্টি কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শুরু হয় প্রচার। প্রচারে কী বার্তা দিচ্ছেন? মধুসূদনবাবু বলেন, খড়্গপুর শহরে কালো জলের সমস্যা মেটেনি আজও। কারখানাগুলিতে স্থানীয় ছেলেমেয়েদের কাজ দিতে হবে। খড়্গপুর শহরকে দূষণমুক্ত করতে হবে। রেলের হাসপাতালের পরিষেবা উন্নত করতে হবে। শহরের নিকাশি সমস্যার সমাধান করতে হবে। একটি ভালো অডিটোরিয়াম গড়ে তুলতে হবে। এই সমস্ত বার্তা নিয়েই মানুষের কাছে যাচ্ছি। দিলীপ ঘোষ, প্রদীপ সরকারের মতো হেভিওয়েট প্রার্থীদের বিরুদ্ধে লড়াই কতটা কঠিন? মধুসূদনবাবু বলেন, নামের বিরুদ্ধে নয়, আমাদের লড়াই বেকারত্ব আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে। সেই লড়াইয়ে বামেরাই জয়ী হবে বলে আমরা আশাবাদী। কিন্তু ভোটে লড়ার খরচ? মধুসূদনবাবু জানান, এটা ঠিক যে, আমরা বিজেপি বা তৃণমূলের মতো খরচ করতে পারব না। তবে যেটুকু খরচ করতেই হচ্ছে, সেটা পার্টি আর পার্টি কর্মীরাই দেখছেন। খরিদার রাজা শিট, সুভাষপল্লির লিটন বোস, রাজেশ তেওয়ারি প্রমুখ বাসিন্দারা বলেন, কোভিডের সময়ে ওঁর কাজ আমরা ভুলিনি। অত্যন্ত ভালো মানুষ। কাজের মানুষ, কাছের মানুষ। তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ সরকার বলেন, আমিও ডানপন্থী ছাত্র রাজনীতি করেছি। মধুসূদনবাবু বামপন্থী। সেই সময় থেকেই চিনি।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ