নয়াদিল্লি: নিটের প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে ইতিমধ্যে কিংপিন পি ভি কুলকার্নি, অন্যতম চক্রী মনীষা মানধারে, মিডলম্যান মনীষা ওয়াঘমারেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এবার মহারাষ্ট্রের লাতুরের একটি কোচিং সেন্টারের মালিককে গ্রেপ্তার করল সিবিআই। ধৃতের নাম শিবরাজ রঘুনাথ মোতেগাওনকর। অভিযোগ, কুলকার্নিদের গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্য ছিলেন শিবরাজ। ধৃতের মোবাইলে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের সন্ধান মিলেছে। এই নিয়ে নিট কাণ্ডে মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হল।
লাতুরের শিবনগরে একটি কোচিং সেন্টার চালান শিবরাজ। নাম রেণুকাই ক্যারিয়ার সেন্টার। সিবিআই সূত্রের খবর, ২৩ এপ্রিল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও উত্তর শিবরাজের হাতে আসে। অর্থাৎ, পরীক্ষার ১০ দিন আগে। পাওয়া মাত্র হাতে লিখে সেগুলি সরবরাহ করেন অভিযুক্ত। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, পরীক্ষার পর সবকিছু নষ্ট করে দেওয়া হয়। শুক্রবার শিবরাজের লাতুরের বাড়িতে অভিযান চালায় সিবিআই। প্রায় আট ঘণ্টা ধরে চলে ম্যারাথন জেরা। রবিবার কোচিং সেন্টারেও তল্লাশি চালানো হয়। এরপরেই শিবরাজকে গ্রেপ্তার করে সিবিআই। ধৃতের মোবাইল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, আরও তথ্য সংগ্রহের জন্য সেটিকে ফরেনসিক পরীক্ষায় পাঠানো হবে। মহারাষ্ট্রের এই সেন্টারটির রিভিউ থেকে দেখা গিয়েছে, এটিকে ডাক্তার তৈরির কারখানা হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। গত দু’দশক ধরেই এই সেন্টারকে রাজ্যের এক নম্বর বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা শিবরাজ মাতেগাঁওকর নিজে কেমিস্ট্রিতে গোল্ড মেডেলিস্ট। এম স্যার বলে তিনি পরিচিত। ২০০৩ সালে তিনি প্রথম আরসিসি শুরু করেন। এখন রাজ্যে তাঁর আটটি সেন্টার চলে। গত ১৯ বছরে এখান থেকে ১৫ হাজার ডাক্তার বেরিয়েছে। নিজের সংস্থার অ্যাপ ও দু’টি স্কুল চালান শিবরাজ স্যার।
তদন্ত সূত্রে খবর, নিটের মোট দু’সেট প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছিলেন কুলকার্নি ও মানধারে। একটি হাতে লেখা আর একটি ছাপানো। রসায়ন ও উদ্ভিদবিদ্যার এই দুই অধ্যাপক ধরা পড়তেই বিষয়টি জানা যায়। এই নিয়ে চর্চার মাঝেই ‘গেস পেপার’এর প্রসঙ্গ সামনে আনলেন শশীকান্ত সুতার। তিনি জানান, ৩ মে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরেই প্রশ্নপত্রের পিডিএফ তাঁর হাতে আসে। সঙ্গে সঙ্গে থানায় গিয়ে বিষয়টি জানান তিনি। শশীকান্তের কথায়, ‘পরীক্ষা শেষ হতেই এক পরিচিত ব্যক্তি আমাকে গেস পেপারের পিডিএফ দেখান। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে ২০২৬ নিট প্রশ্নপত্রের সঙ্গে সেটি মিলিয়ে দেখি। তাতেই সবকিছু স্পষ্ট হয়ে যায়। মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে রসায়নের প্রত্যেকটি প্রশ্ন মিলে গিয়েছে।’