সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: সেই মেদিনীপুর থেকে নদীপথে বাণিজ্য করতে সুন্দরবনের ‘ত’ হাটে আসতেন কারবারিরা। ত হাট পরে উঠে যায়। তবে যে মাঠে হাট বসত সেটি এখনও আছে। তখনও কাকদ্বীপ শহর তৈরিই হয়নি। সুন্দরবনের এই এলাকায় ঘন জঙ্গল। প্রায় ২০০ বছর আগে এক কাপালিক আসেন। কালনাগিনী নদীর ধারে জঙ্গল কেটে একটি মন্দির স্থাপন করেন। শুরু করেন কালীপুজো। তান্ত্রিক মতে নিজেই করতেন পুজো। কালীর নামে ওই অঞ্চলটি কালীবাজার নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। অনেক পরে কাকদ্বীপ শহর তৈরি হল। আর মন্দিরের সামনে বসল হাট। ওই হাটের নাম ত। নৌকাতে জলপথে ভ্রমণ করে হাটে জিনিস বিক্রি করতে আসতেন ভিন এলাকার ব্যবসায়ীরা। মন্দিরে পুজো দিতেন। মন্দিরের সামনে সেই ফাঁকা মাঠ রয়ে গিয়েছে। কিন্তু হাটটি আর বসে না। লোকে বলে, কাকদ্বীপ শহরে এটিই প্রাচীনতম মন্দির। এখন পুরনো কালীমন্দির নামে পরিচিত। মন্দির ছিল ছিটে বেড়ার। মাথায় খড়ের ছাউনি। ৫০ বছর আগে ছাদ কংক্রিটের তৈরি করা হয়। পরম্পরা মেনে তান্ত্রিকরাই পুজো করতেন। কিন্তু বর্তমানে ব্রাহ্মণ পুজো করেন। আদি মন্দির হিসেবে আলাদা গুরুত্ব পায় পুরনো কালী। কাকদ্বীপের প্রচুর মানুষ ডালা দিয়ে পুজো দেন। সারারাত ধরে হয় পূজার্চনা। মন্দির কমিটির সম্পাদক শুকদেব দাস বলেন, ‘সাধারণত কালী মন্দিরগুলিতে পঞ্চপচারে পুজো হয়। কিন্তু এই কালীর পুজো হয় ষোড়শপচারে। বর্তমানে এখানকার বাসিন্দারা গার্হস্থ্য জীবন যাপন করেন। তাঁদের জন্য দক্ষিণাকালীর পুজো হয়। তান্ত্রিক মতে পুজো করা হয় না।’



