Bartaman Logo
৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

‘স্নান না করলে খেতে দেব না’  

‘মজার’ ঝগড়া লেগেই থাকত মৃণাল সেন ও গীতা সেনের মধ্যে। ভীষণ শীতকাতুরে মানুষ ছিলেন মৃণাল সেন। শোনা যায়, শীতকাল এলেই নাকি একদম স্নান করতে চাইতেন না তিনি। এই নিয়ে দু’জনের মধ্যে লেগে থাকত নিত্য ঝগড়া।

‘স্নান না করলে খেতে দেব না’
 
  • ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
Prefer us on Google
 ‘মজার’ ঝগড়া লেগেই থাকত মৃণাল সেন ও গীতা সেনের মধ্যে।  ভীষণ শীতকাতুরে মানুষ ছিলেন মৃণাল সেন। শোনা যায়, শীতকাল এলেই নাকি একদম স্নান করতে চাইতেন না তিনি। এই নিয়ে দু’জনের মধ্যে লেগে থাকত নিত্য ঝগড়া। গীতা সেন বলতেন, ‘তুমি যদি স্নান না করো, আমি কিন্তু তোমাকে খেতে দেব না।’ একদিন বাড়িতে বসে রয়েছেন মৃণাল। গীতা সেন বলছেন, ‘কী গো, শুনছো, তোমার স্নান হয়েছে?’ দীর্ঘায়িত উত্তর দিলেন মৃণাল সেন, ‘ক-ও-ও-ও-বে’। তার মানে কিন্তু এই না যে, উনি দীর্ঘক্ষণ আগে স্নান সেরে ফেলেছেন। হয়তো সদ্য বেড়িয়েছেন স্নান সেরে। কিন্তু রসিকতা করে জবাব দিতেন এভাবেই। তাঁদের মধ্যে ঝগড়া হলে প্রায়ই কথা বন্ধ হয়ে যেত। দরকারি কথা কাগজে লিখে রেখে যেতেন গীতা। তবে মৃণাল সেনের ‘সাপোর্ট সিস্টেম’ ছিলেন তাঁর স্ত্রী। যে কোনও কাজে সবসময় স্বামীর পাশে থেকেছেন তিনি। বিয়ের পর তাঁদের সংসারে ছিল অনটন। তা সত্ত্বেও স্বামীকে কখনও চাপ দেননি গীতা। অভাবের ভারে নুয়ে পড়েও অভিযোগ করেননি। ছেলে কুণালকে নিয়ে মুখ বুজে সংসার করেছেন। প্রতি মুহূর্তে সমর্থন করে গিয়েছেন মৃণাল সেনকে। আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হওয়ার পরেও কখনও আড়ম্বরের জীবন বেছে নেননি মৃণাল-গীতা। জীবন কাটাতেন অত্যন্ত সাধারণভাবে। স্ত্রীর মেধা-প্রতিভাকেও মৃণাল সেন ব্যবহার করেছিলেন ছবির জন্য। বিয়ের আগে নাটক করতেন গীতা। সেই প্রতিভা-অভিজ্ঞতাকে মৃণাল ব্যবহার করলেন ‘কলকাতা ৭১’, ‘একদিন প্রতিদিন’, ‘আকালের সন্ধানে’-এর মতো একাধিক ছবিতে। দর্শকরা ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন গীতা সেনের। এই স্ত্রী তথা সাপোর্ট সিস্টেমের প্রয়াণে অত্যন্ত ভেঙে পড়েছিলেন পরিচালক।
Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ