তখন নিউ ইয়র্কে বেশ কয়েকটি অভিনয় প্রশিক্ষণ স্কুল তৈরি হয়েছে। মাঝেমাঝে সেগুলিতে একঘেয়েমি কাটানোর জন্য টাস্ক দেওয়া হতো। একদিন ক্লাসে পড়ুয়াদের টাস্ক দেওয়া হল, ‘ধরো তোমরা হলে মুরগি। একদিন বিমান হামলার সাইরেন বেজে উঠল। মুরগি সেটা শুনে কী করবে, অভিনয় করে দেখাও।’ ক্লাসজুড়ে সকলে মুরগির ডাক ডেকে উঠল। হাত-পা নেড়ে নানা অঙ্গভঙ্গি করতে লাগল তারা। তাদেরই মাঝে একজন চুপচাপ বসে রইল। প্রশিক্ষক তো তাকে দেখে অবাক। সকলের পারফরম্যান্স শেষ হওয়ার পর ওই ছাত্রকে ডেকে তিনি প্রশ্ন করলেন, ‘তুমি চুপচাপ বসে রইলে কেন?’ উত্তরে সকলকে অবাক করল সে। বলল, ‘আমি তো মুরগি। সাইরেনের শব্দ আমি তো চিনিই না। লাফাতে যাব কেন?’ এদিনের সেই চুপচাপ বসে থাকা কিশোরই মার্লন ব্র্যান্ডো। যাঁর অভিনয় দক্ষতা পরবর্তীতে মুগ্ধ করবে সিনেপ্রেমীদের। ‘গডফাদার’ ছবিতে তাঁর ক্ষুরধার অভিনয় দেখে শিহরিত হতেই হয়। প্রথমে এই ছবির জন্য তাঁকে নির্বাচন করতে রাজি হননি প্রযোজকরা। নেপথ্যে ছিল তাঁর নামে নানা কুৎসা। তবে পরিচালক ফ্রান্সিস ফোর্ড কপোলা ভিটো কর্লিওনি চরিত্রের জন্য বেছে নিলেন তাঁকেই। রচিত হল বিশ্ব সিনেমার এক নতুন ইতিহাস। ১৯৭২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সেই ছবি দেখতে ভিড় জমেছিল প্রেক্ষাগৃহগুলিতে। পরের বছর অস্কার কমিটি সেরা অভিনেতা হিসেবে নির্বাচন করেছিল ব্র্যান্ডোর নাম। তবে অস্কার গ্রহণ করতে চাননি তিনি। নেটিভ আমেরিকানদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে তিনি সেই পুরস্কার নিতে চাননি। সদ্য সমাপ্ত কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে শ্রদ্ধা জানানো হয় এই কিংবদন্তি অভিনেতাকে।



