অর্ক দে, কলকাতা: শহুরে বনাঞ্চলের শীর্ষে দার্জিলিং। সেখানে শহরের ৬৭.০৩ শতাংশ সবুজ। দেশের অন্যান্য মেগাসিটির তুলনায় কলকাতায় সবুজের পরিমাণ সবথেকে কম। কার্যত তলানিতে শহরের ‘ওপেন গ্রিন স্পেস।’ সম্প্রতি ফরেস্ট সার্ভে অব ইন্ডিয়ার (ইন্ডিয়া স্টেট অব ফরেস্ট রিপোর্ট, ২০২৩) রিপোর্টে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়টি উদ্বেগ বাড়িয়েছে পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের। যদিও দেখা গিয়েছে কলকাতার হাল উদ্বেগজনক হলেও মহানগরের তুলনায় আয়তনে ছোট হলেও শহুরে বনাঞ্চলের নিরিখে স্বস্তি দিচ্ছে অন্যান্য পুরসভা। যেমন উলুবেড়িয়া, বসিরহাট, হাবড়া ও ভদ্রেশ্বর। তবে শীর্ষে রয়েছে দার্জিলিং।
Advertisement
সার্ভে রিপোর্টে বাংলার বিভিন্ন পুরসভা এলাকার কোথায় কত বনাঞ্চল রয়েছে তার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে দেখা গিয়েছে, উলুবেড়িয়া পুর এলাকার মোট ৫৬.১৪ শতাংশজুড়ে বনাঞ্চল রয়েছে। এরপর সে তালিকায় এসেছে বসিরহাট এবং হাবড়ার নাম। সেখানে যথাক্রমে ৫৩.৫১ ও ৫০.৭৬ শতাংশ বনাঞ্চল। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, এই পুরসভাগুলির তুলনায় কলকাতা পুরএলাকা আয়তনে বহু গুণ বড়, প্রায় ২০৬ বর্গ কিমি। আর কলকাতার বুকে ‘সবুজ’ মাত্র ১.১০ শতাংশ। সেখানে উলুবেড়িয়ার আয়তন ৩৪.০২ বর্গ কিমি, বসিরহাট ২৪.০৭ বর্গ কিমি ও হাবড়া ২২.৪৪ বর্গ কিমি। এই প্রসঙ্গে উলুবেড়িয়া পুরসভার চেয়ারম্যান অভয় দাস বলেন, ‘উলুবেড়িয়া পুরসভার ৮, ১১, ১২, ১৬, ১৭, ১৮, ১৯, ২০, ২১, ২৪, ৩০ এবং ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচুর গাছ আছে। এছাড়াও পুরসভা এলাকায় থাকা একাধিক জুট মিল এলাকায়ও গাছ আছে। পুরসভার উদ্যেগেও প্রতিবছর বৃক্ষরোপণ হয়। সম্প্রতি পুর এলাকায় নতুন বাড়ি তৈরির অনুমতি দেওয়ার সময় একটি ন্যূনতম জায়গায় কিচেন গার্ডেন বা বাগান তৈরির কথা বলা হয়েছে। পুরসভার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাঁশতলা থেকে দুই নম্বর ওয়ার্ডের চকমধু জেলেপাড়া পর্যন্ত নদীপাড় বরাবর গাছ বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সবুজরক্ষায় নানা পদক্ষেপ করা হচ্ছে।’ হাবড়া পুরসভার চেয়ারম্যান নারায়ণচন্দ্র সাহা বলেন, ‘গাছ লাগানো বা সবুজ রক্ষায় নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়। সরকারি স্কুলে সবুজায়নের জন্য গাছ দেওয়া হয়। এই পুরসভা মূলত মফস্সল শহর। আমাদের এখানে সেভাবে প্রোমোটিং মাথাচাড়া দেয়নি। তাই জমি বাঁচানো যাচ্ছে।’ বসিরহাট পুরসভার চেয়ারপার্সন অদিতি মিত্র বলেন, ‘সব ওয়ার্ডেই কম বেশি গাছ আছে। বেশ কিছু ওয়ার্ডে ঢুকলে বোঝা যায়, পরিবেশ অন্যরকম। তাছাড়া বিভিন্ন পুজো কমিটিকেও নিয়মিত আমরা গাছ রোপণ করতে বলি। চারাগাছ বিতরণও করা হয়।’
এর পাশাপাশি ৮.৪৯ বর্গ কিমি এলাকাজুড়ে থাকা ভদ্রেশ্বর পুরসভার প্রায় ৩০.০৪ শতাংশ শহুরে বনাঞ্চল রয়েছে। আবার কলকাতা পুরসভা বাদে অন্যান্য পুরসভার মধ্যে আয়তনের নিরিখে শীর্ষে থাকা আসানসোল (৩২৭.৪৭ বর্গকিমি) পুরসভা এলাকায় সবুজ রয়েছে মাত্র ২.২২ শতাংশ। এ ছাড়া আয়তনের দিক দিয়ে উপরের দিকে থাকা দুর্গাপুর, বিধাননগর, হাওড়া, রাজপুর-সোনারপুর পুরসভা
এলাকা বনাঞ্চলের নিরিখে শতাংশের বিচারে অনেক পিছিয়ে।
এর পাশাপাশি ৮.৪৯ বর্গ কিমি এলাকাজুড়ে থাকা ভদ্রেশ্বর পুরসভার প্রায় ৩০.০৪ শতাংশ শহুরে বনাঞ্চল রয়েছে। আবার কলকাতা পুরসভা বাদে অন্যান্য পুরসভার মধ্যে আয়তনের নিরিখে শীর্ষে থাকা আসানসোল (৩২৭.৪৭ বর্গকিমি) পুরসভা এলাকায় সবুজ রয়েছে মাত্র ২.২২ শতাংশ। এ ছাড়া আয়তনের দিক দিয়ে উপরের দিকে থাকা দুর্গাপুর, বিধাননগর, হাওড়া, রাজপুর-সোনারপুর পুরসভা
এলাকা বনাঞ্চলের নিরিখে শতাংশের বিচারে অনেক পিছিয়ে।



