ভূতের রাজার বর। হাতে হাতে তালি দিয়েই যেখানে খুশি যেতে পারত গুপি-বাঘা। কিন্তু সে রামও নেই, অযোধ্যাও নেই। বিদেশে যাওয়ার প্ল্যান করলে সবার আগে ভাবতে হয় পাসপোর্ট, আর ভিসার কথা। এসব নথি ছাড়া ভিনদেশে পা রাখলে ঠাঁই হবে শ্রীঘরে। ভারতীয়দের নেপাল-ভুটানে যাওয়ার জন্য ভিসা- পাসপোর্ট লাগে না। কিন্তু ওই এক-দু’টো দেশই ব্যতিক্রম। অন্য সব দেশে পাসপোর্ট বাধ্যকতামূলক। সে রাষ্ট্রপতি হোন বা আমার-আপনার মতো আম আদমি— সবার ক্ষেত্রে নিয়মটা এক। থুড়ি, একটু ভুল হয়ে গেল। সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় এই নিয়ম। বিশ্বে মাত্র তিনজনের ক্ষেত্রে এই নিয়ম খাটে না। তবে তালিকায় নেই বিশ্বের সবথেকে শক্তিশালী দেশ আমেরিকার রাষ্ট্রপ্রধানও। তাহলে প্রশ্ন হল, সেই ভাগ্যবান কারা? এই বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্তরা হলেন জাপানের রাজা নারুহিতো ও রানি মাসাকো এবং ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস। তাঁরা পাসপোর্ট ছাড়াই যে কোনও দেশে সফর করতে পারেন। আগে পদাধিকারবলে এই বিশেষ ক্ষমতা ভোগ করতেন ব্রিটেনের প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। ব্রিটিশ রাজ পরিবারের আর কোনও সদস্যের ক্ষেত্রে কিন্তু এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। এমনকী বর্তমান রাজার স্ত্রী ব্রিটেনের রানি কনর্সট ক্যামিলা বা যুবরাজ ও পরিবারের বাকি সদস্যদের বিদেশ যেতে প্রয়োজন হয় কূটনৈতিক পাসপোর্টের। জাপানে রাজা-রানি ছাড়া রাজ পরিবারের অন্য সদস্যদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট নিতে হয়। জাপানের রাজা-রানির বিদেশ সফরের সময় কূটনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে ওঠে। তাঁরা অন্য কোনও দেশে গেলে সেদেশের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে একটি নথি দেওয়া হয়। তাঁরা যে দেশে যাচ্ছেন সে দেশে ওই নথি দাখিল করাই যথেষ্ট। তাছাড়া বিদেশ মন্ত্রকের তরফে রাজা-রানির সফরের কথা আগেভাগে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রকে জানিয়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে, ব্রিটেনের রাজার ক্ষেত্রে এই দায়িত্ব তাঁর ব্যক্তিগত সচিবের।



