Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

‘পক্ষীপ্রেমী’ অবনীন্দ্রনাথ

‘পক্ষীপ্রেমী’ অবনীন্দ্রনাথ
  • ৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
ভারতীয় শিল্পকলার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ‘ভারত মাতা’ থেকে ‘গণেশ জননী’—ছবি আঁকায় এক স্বতন্ত্র ঘরানার জন্ম দিয়েছিলেন ঠাকুরবাড়ির এই কৃতী সন্তান। শিশু সাহিত্যে তাঁর অবদান সহজে ভোলার নয়। অত্যন্ত জ্ঞানী এই মানুষটির হৃদয় চিরকাল ছিল শিশুর মতো সরল। শৈশব থেকেই প্রকৃতিকে আপন করে নিয়েছিলেন তিনি। পাখিদের প্রতি ভালোবাসার সূত্রপাতও তখন থেকেই । ছোটবেলায় দেখতেন, বাড়ির দক্ষিণ দিকের বাগানে খেলা করছে সারস। পুকুরে নেমে দিব্যি মাছ ধরছে। ঘাসের উপর ঘুরে বেড়াচ্ছে ময়ূর। শিল্পীর লেখায় বারবার উঠে এসেছে পাখির প্রসঙ্গ। এক জায়গায় অবন ঠাকুর লিখছেন, ‘পায়রা থেকে থেকে ঝাঁক বেঁধে বাড়ির ছাতে উড়ে উড়ে বেড়ায়...। রাতে ডাকে পাপিয়া-কতদূর থেকে কোকিল তার জবাব দেয়—পিউ পিউ, কিউ কিউ!’ অবনীন্দ্রনাথের ছোট মেয়ের মৃত্যু হয়েছিল প্লেগে। এই অবস্থায় শোকে বিহ্বল শিল্পী জোড়াসাঁকো ছেড়ে সপরিবারে চলে এলেন চৌরঙ্গীর বাড়িতে। স্ত্রী সুহাসিনী দেবীর মন ভালো করতে কিনে এনেছিলেন টিয়া, ময়না, চন্দনা সহ হরেক রকমের পাখি। ছোট পাখিদের ছাতু সহ নানান খাবার খাইয়ে বড় করতেন। পাখা মেলার বয়স হলেই উড়িয়ে দিতেন নীল আকাশে। এখানেই শেষ‌ নয়। কোনও পাখি অসুস্থ হলে রীতিমতো বই ঘেঁটে তার চিকিৎসা করতেন। সময়মতো ওষুধ খাওয়াতেন। বাঁচানোর সবরকম চেষ্টা চালিয়ে যেতেন। আবার মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও পাখিদের নিজের কোলে বসিয়ে রাখতেন। কৃষ্ণলীলার ছবির আঁকার সময় বাড়ির বাগানে পাখি ছেড়ে দিয়েছিলেন ‘বেঙ্গল স্কুল অব আর্ট’-এর প্রতিষ্ঠাতা। চারপাশে পাখি থাকলে কাজে বেশি উৎসাহ পেতেন অবন ঠাকুর। গতকাল ছিল তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ