Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘মায়েদের’ সামনে আগ্নেয়াস্ত্র রেখে, পুরুষদের হাতে বোমা ধরিয়ে ডাকাতি

‘মায়েদের’ সামনে আগ্নেয়াস্ত্র রেখে, পুরুষদের হাতে বোমা ধরিয়ে ডাকাতি
  • ২৫ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ডাকাতরা প্রথমে মহিলাদের একটি ঘরে আটকে রাখে। আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে তাঁদের মাথা নিচু করে রাখার হুমকি দেওয়া হয়। পাশাপাশি পুরুষদের হাতে বোমা রেখে চুপ করে থাকার হুমকি দেয়। কিন্তু এই নৃশংসতার পাশে তাঁরা মানবিক ধর্মও দেখিয়েছে। মহিলারা অসুস্থ হয়ে পড়লে রান্নাঘর থেকে তাদের জল এনে দেয়। ‘মা’ বলে ডেকে সেবা-শুশ্রূষাও করে ডাকাতরা। অপারেশন শেষ হয়ে যাওয়ার পর ফেরার পথে তাদের বলে যায়, মা ভালো থেক। কাউকে কিছু বল না। বললে কিন্তু অসুবিধা রয়েছে।
Advertisement
শনিবার রাতে দেগঙ্গার আমুলিয়ার কলাপোল এলাকায় এমন অভিনব কায়দায় ডাকাতি করে পালাল দুষ্কৃতী দল। তাদের ধরতে পুলিস স্পেশাল তদন্তকারী টিম গড়েছে। তাতে রয়েছেন একাধিক ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার অফিসার থেকে জেলা পুলিসের এক শীর্ষকর্তা।
জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে আমুলিয়া পঞ্চায়েতের কলাপোল এলাকায় মৃণাল চৌধুরী ও তরুণতপন দেবের বাড়িতে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যার সময় বাড়িতে যখন পুরুষরা ছিলেন না, তখনই দুটি বাইকে করে এসে দুষ্কৃতীরা ওই দুই বাড়িতে ডাকাতি করে। চৌধুরী ও দেববাড়ির মহিলাদের আটকে রেখে তাঁদের সামনে রাখা হয় আগ্নেয়াস্ত্র। হুমকি দিয়ে বলা হয় মাথা নামিয়ে রাখতে। চিৎকার করলেই খুন করা হবে। তারপর একে একে বাড়ির আলমারি সহ বিভিন্ন জায়গায় থেকে বিভিন্ন জিনিস লুট করে তারা।
দুই পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, দুটি বাড়ি মিলিয়ে প্রায় ৩০ ভরির বেশি সোনার গয়না খোয়া গিয়েছে। পাশাপাশি নগদ টাকাও নিয়ে পালিয়েছে ডাকাতরা। এ বিষয়ে অপর্ণা চৌধুরী বলেন, একেবারে গান পয়েন্টে রেখে আমাদের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটিয়েছে ডাকাতরা। দু’টি বাইকে করে এসেছিল। বাংলা ও হিন্দি মিশিয়ে ওরা কথা বলছিল। অসুস্থ হয়ে পড়লে ‘মা’ সম্বোধন করে আমাদের জলও দিয়েছে ওরা। স্বাভাবিকভাবে এতে আমরা অবাক। তবে, আতঙ্কে রয়েছি। তরুণতপন দেব বলেন, ডাকাতদের প্রত্যেকের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে লুটপাট করে। আর পুরুষদের হাতে বোমা দিয়ে বলে, কথা বললেই তা ফাটিয়ে খুন করা হবে।
দেগঙ্গা থানা পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক মাস আগে বাদুড়িয়া থানা এলাকায় একই কায়দায় ডাকাতি হয়েছিল। সেই ঘটনার সঙ্গে এর ভালো মিল পাওয়া গিয়েছে। প্রাথমিকভাবে অনুমান, একই চক্র এই ঘটনা ঘটিয়েছে। তাই সার্বিকভাবে চেকিংয়ের প্রক্রিয়াও আমরা শুরু করে দিয়েছি।
অন্যদিকে, বেড়াচাঁপার কুঁচেমড়াতে শনিবার রাতে চুরির ঘটনা ঘটে। ক’দিন আগে সেখানকার বাসিন্দা খুরশিদ আলম গিয়েছিলেন আজমির শরিফ। রবিবার সকালে পড়শিরা দেখেন, তাঁর বাড়ির তালা ভাঙা। ভিতরটা তছনছ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ভাইপো সুখচাঁদ আলি বলেন, ভেতরে থাকা ৯২ হাজার টাকা ও সোনার গয়না নিয়ে চম্পট দিয়েছে দুষ্কৃতীরা। আমরা থানায় অভিযোগ জানাব।
সম্পর্কিত সংবাদ