Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

‘কৃষ্ণ জাঙ্গাল’  

‘কৃষ্ণ জাঙ্গাল’
 
  • ১০ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
কল্লোলিনী তিলোত্তমার অলিতে গলিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ইতিহাস। কতই না স্মৃতির ডালি ভরে রয়েছে শহর কলকাতার নানা প্রান্তে। রাস্তাগুলিও যেন অতীতের জানা-অজানা ঘটনার ক্যানভাস। উত্তর কলকাতার কৃষ্ণরাম বসু স্ট্রিট ও ফড়িয়াপুকুর স্ট্রিটের নামকরণেও রয়েছে এমনই ইতিহাসের ছোঁয়া। কৃষ্ণরাম বসু ছিলেন অতীত আমলের এক সাড়া জাগানো চরিত্র। বিভিন্ন ঐতিহাসিক পত্রপত্রিকা থেকে জানা যায়, কলকাতা আক্রমণের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে ১ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন নবাব সিরাজদৌল্লা। সেই টাকা বন্টনের জন্য লর্ড ক্লাইভ মোট ১৩ জন কমিশনার নিযুক্ত করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন দয়ারাম বসু। তাঁরই সুযোগ্য পুত্র কৃষ্ণরাম বসু। তাঁর ব্যবসায়িক বুদ্ধি ছিল প্রখর। লবণের ব্যবসায় অল্পদিনের মধ্যে প্রভূত অর্থ উপার্জন করেন তিনি। পরে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অধীনে হুগলির দেওয়ানি লাভ করেন। অত্যন্ত ধর্মপরায়ণ হিসেবে খ্যাতি গড়ে উঠেছিল তাঁর। বিভিন্ন স্থানে তিনি মন্দির স্থাপন করে ছিলেন। এর মধ্যে রয়েছে শ্রীরামপুরের মাহেশের রথ, যশোরে শ্রীশ্রী মদন গোপাল, বীরভূমে শ্রীশ্রী রাধাবল্লভ মূর্তি, গয়ার রামশিলা। সর্বোপরি নিজের উত্তর কলকাতার শ্যামবাজারের বাড়িতে তিনি ধূমধাম সহকারে শ্যামবিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। শ্যামল ঘোষ সম্পাদিত ‘দেশকাল’ পত্রিকায় ‘নাম দিয়ে যায় চেনা’ নিবন্ধ থেকে জানা যায়— বাংলাদেশে ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের সময় লাখ টাকার চাল বিতরণ ও ‘কৃষ্ণ জাঙ্গাল’ (নিজ বাড়ি থেকে মথুরা পর্যন্ত) পথ কৃষ্ণরাম বসুর অন্যতম কীর্তি।
Advertisement
ফড়িয়াপুকুর স্ট্রিটের সঙ্গে জড়িয়ে ব্যবসায়িক ইতিহাস। অতীতে এই অঞ্চলে একটি বড় পুকুরের ধারে ফড়িয়া বা ব্যাপারীরা কেনাবেচার জন্য ভিড় জমাতেন। সেই থেকেই এই নাম। ১৯৬৩ সালে কলকাতা পুরসভা শিবদাস ভাদুড়ির সম্মানে এই রাস্তার নাম বদল করে।
সম্পর্কিত সংবাদ