Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

‘বাগান শুকিয়ে গেলে কী হতো!’ 

‘বাগান শুকিয়ে গেলে কী হতো!’ 
  • ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নাটকটি মঞ্চে দেখেই পছন্দ হল তপন সিনহার। ভাবলেন সিনেমা তৈরি করবেন। ‘সাজানো বাগান’ থেকে হবে ‘বাঞ্ছারামের বাগান’। মুখ্য ভূমিকায় মনোজ মিত্র। জমিদারের চরিত্রে ঠিক করলেন উত্তম কুমারের নাম। তপন সিনহার অত্যন্ত ভরসার নাম ছিল উত্তম কুমার। আবার মুদ্রার উল্টোপিঠও সত্যি। তবে এই সম্পর্কে ফাটল ধরল ‘বাঞ্ছারামের বাগান’ করতে গিয়ে। শ্যুটিংয়ের জন্য একটি খেত তৈরি করা হয়েছিল। স্ক্রিপ্ট পৌঁছে গিয়েছিল মহানায়কের কাছে। প্রস্তুতি শুরু করে দেন উত্তম কুমার। তবে আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। ভর্তি করা হয় নার্সিংহোমে। সুপ্রিয়া দেবী তখন অনুরোধ করলেন, দু’মাস মতো শ্যুটিং পিছিয়ে দিতে। সে কথা শোনেননি তপনবাবু। ঠিক করলেন, উত্তম কুমারের পরিবর্তে ওই চরিত্রে অভিনয় করবেন দীপঙ্কর দে। ‘চলচ্চিত্র আজীবন’ বইতে পরিচালক লিখেছিলেন, উত্তম, সৌমিত্রর পর সবচেয়ে বড় অ্যাক্টর দীপঙ্কর। তবে প্রথমে রাজি হতে চাননি দীপঙ্কর। বলেছিলেন, ‘উত্তম কুমারের জায়গায় আমি! সকলে কী বলবেন?’ চেয়েছিলেন ফোন করে উত্তম কুমারের অনুমতি নিতে। রাজি হননি তপনবাবু। তাঁর কড়া নির্দেশ—একদম না। চিত্রনাট্য ফেরত চাইতে লোক পৌঁছল উত্তম কুমারের বাড়িতে। সুপ্রিয়া দেবী জানালেন, স্ক্রিপ্ট রয়েছে নার্সিংহোমে। তা দেখে প্রস্তুতি নিচ্ছেন উত্তম কুমার। সেখানে গিয়েও স্ক্রিপ্ট চাওয়া হল। থমথমে মুখে স্ক্রিপ্ট ফেরত দিয়েছিলেন মহানায়ক। নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি তপন সিনহা। পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে মামলাও করেছিলেন উত্তম কুমার। আদালতে তপনবাবু বলেছিলেন, ‘বাগান শুকিয়ে গেলে কী হতো!’ তপন সিনহা ছিলেন ‘অভিনেতাদের পরিচালক’। ক্যামেরাকে ভালোবাসতে, ক্যামেরার ফ্রেমে পৃথিবীকে দেখতে পারতেন তিনি। কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের শেষদিন তপন সিনহার শ্রদ্ধার্ঘ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই স্মৃতিচারণা অভিনেতা দীপঙ্কর দে’র। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ