নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: প্রেমদিবসে প্রেমিকাকে পিছনের সিটে বসিয়ে উদ্দাম গতিতে বাইক ছোটাচ্ছিলেন তন্ময় সর্দার(নাম পরিবর্তিত)। যুগলের কারও মাথায় হেলমেট নেই। কিন্তু সপ্তপদী সিনেমার উত্তম-সুচিত্রার মতো তাঁদের সেই সফর মধুর হল না। সৌজন্যে পুলিস। পলাশীপাড়া থানার রামচন্দ্রপুরে দূর থেকে বাইকটি দেখেই ইশারায় থামতে বলে পুলিস। ততক্ষণে তন্ময় বুঝে গিয়েছেন, পুলিস কেন দাঁড় করিয়েছে। তাই পুলিসের কাছে পৌঁছতেই তাঁর কাতর আর্জি-‘আজকের দিনটা ছেড়ে দিন স্যার।’ যদিও সেই আবেদনে সায় দেয়নি পুলিস। ট্রাফিক নিয়ম ভাঙার অপরাধে বাইক বাজেয়াপ্ত করে নেওয়া হয়। বিকেলের পর জরিমানা দিয়ে তা ফেরত পান। শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর অবধি পলাশীপাড়া থানার পুলিস ৪০টি বাইক আটক করেছে। পুরো কৃষ্ণনগর পুলিস জেলায় সেই সংখ্যা ১৫০। অনেক জায়গাতেই প্রেমদিবসে ছেড়ে দেওয়ার জন্য যুগলদের আবদার শুনতে হয় পুলিসকে। ১৪ ফেব্রুয়ারি মানেই প্রেমদিবস। তার উপর ছুটির দিন হওয়ায় এদিন যুগলদের পোয়াবারো ছিল। বাইকে ঘুরতে বেরনো, রেস্তরাঁ কিংবা পার্কে সময় কাটানোর মাধ্যমে অনেক যুগলরা দিনটি উদযাপন করে। কিন্তু তাঁদের সুরক্ষায় সদা তৎপর ট্রাফিক পুলিস এদিনও নিয়ম ভাঙা বরদাস্ত করেনি। ট্রাফিক নিয়ম ভেঙে চলাচল রুখতে দিনভর অভিযান চলে। কোথাও পুলিস ধরলেই যুগলদের মুখে একটাই কথা, ‘আজকের দিনটা ছেড়ে দিন স্যার।’ তা শুনে মুচকি হাসি নিয়ে পুলিস আধিকারিকদের প্রশ্ন, ‘কেন? আজ কী?’ তার উত্তরে প্রেমিকরা ভ্যালেন্টাইন্স ডে বলতেই পুলিসের কড়া সুর, ‘ভ্যালেন্টাইন ডে’-তে কি দুর্ঘটনা ঘটতে পারে না?’ পুলিস বাইক বাজেয়াপ্ত করায় অনেক যুবককেই বলতে শোনা গেল, ‘দিনটাই মাটি হল।’ কারণ বাইক নিয়ে নেওয়ায় ঘোরাঘুরি তো হলই না। যে টাকা নিয়ে বেরিয়েছিলেন, তাও জরিমানা দিতে লেগে গেল। এক পুলিস আধিকারিক জানালেন, শুক্রবার ট্রাফিক আইন ভাঙার জন্য যাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তাঁদের বেশিরভাগই প্রেমিকাকে নিয়ে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন। সম্প্রতি তেহট্ট, পলাশীপাড়া সহ বিভিন্ন এলাকায় বেশকিছু বাইক দুর্ঘটনা ঘটেছে। সেকারণে উৎসবের দিনে রাস্তায় ট্রাফিক নিয়ম ভাঙা রুখতে পুলিস কড়া হয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসের ১৩ তারিখ পর্যন্ত ট্রাফিক নিয়ম ভাঙায় সবমিলিয়ে ১৮১৭টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে হেলমেট না পরার জন্য ১০২৯টি মামলা হয়েছে।



