Bartaman Logo
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কেরলে শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মহাবিষ্ণু, নারায়ণের সে মূর্তি কলকাতাতেও

কলকাতায় নারায়ণের একটি মন্দির আছে। দেবতার নাম শ্রী গুরুভায়ুরাপ্পান। মূল মন্দিরটি রয়েছে কেরলে

কেরলে শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মহাবিষ্ণু, নারায়ণের সে মূর্তি কলকাতাতেও
  • ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতায় নারায়ণের একটি মন্দির আছে। দেবতার নাম শ্রী গুরুভায়ুরাপ্পান। মূল মন্দিরটি রয়েছে কেরলে। ভক্তদের বিশ্বাস, কেরলে গুরুভায়ুরাপ্পানকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং। দ্বারকা নিমজ্জিত হওয়ার পূর্বে আরাধ্য দেবতা মহাবিষ্ণুকে নিয়ে শ্রীকৃষ্ণ চলে যান কেরলের ত্রিসূরে। সেখানে মন্দির প্রতিষ্ঠা হয়। দেবতা পরিচিত শ্রী গুরুভায়ুরাপ্পান নামে। জায়গাটি ‘ভূলোকের বৈকুণ্ঠ’ হিসাবে মান্যি করেন ভক্তরা। দক্ষিণ ভারতের দ্বারকা নামেও তা পরিচিত।

Advertisement

কালীঘাট উত্তম মঞ্চের কাছে নকুলেশ্বর ভট্টাচার্য লেনে আছে গুরুভায়ুরাপ্পানের মন্দির। কেরল থেকে আনা কালো পাথর, মোটা মজবুত কাঠ, পিতল, কাঁসা ইত্যাদি নির্মাণ উপকরণ আনা হয়েছিল। তা দিয়েই তৈরি মন্দির। কাঁসা, পিতল, কাঠ দিয়ে দক্ষিণী ঘরানার জমকালো কাজ। তাক লেগে যায় দেখলে। গুরুভায়ুরাপ্পানের মূল মন্দিরে সাধারণ পোশাকে ঢোকা নিষেধ। ধুতি-উত্তরীয় পরতে হয় পুরুষদের। মহিলাদের শাড়ি। দেবতার সামনে ইলেকট্রিকের আলো জ্বালানো নিষেধ। অষ্টপ্রহর ঘিয়ের প্রদীপ জ্বলে। সে আলোর ঔজ্জ্বল্য এমন যে, এক কিলোমিটার দূর থেকে দেখা যায়।
ভারতের বিখ্যাত কিছু মন্দিরের মধ্যে অগ্রগণ্য কেরলের গুরুভায়ুরাপ্পানের মন্দির। কয়েক হাজার বছর প্রাচীন বলে তাঁকে আদি দেবতা হিসাবে গণ্য করে মানুষ। পুরাণ মতে, মহাভারতের যুদ্ধ শেষ হওয়ার ৩৬ বছর পর মৃত্যু হয়েছিল শ্রীকৃষ্ণের। যুদ্ধ শেষ হয়েছিল মোটামুটি খ্রিস্টপূর্ব ৩১৫০ থেকে ৩১০২ অব্দের কাছাকাছি সময়। এই মত ধরলে গুরুভায়ুরাপ্পানের বয়স ৩ হাজার বছরেরও বেশি। 
কলকাতাতে গুরুভায়ুরাপ্পানের ভক্তসংখ্যা কম নয়। শ্রী গুরুভায়ুরাপ্পাম সমাজম কলকাতা প্রতিষ্ঠা হয়। মন্দির তৈরির জমি কেনে সে কমিটি। ১৯৮৭ সালের ১৭ জানুয়ারি কাঞ্চি কামকোটি পীঠের শ্রী জয়েন্দ্র সরস্বতী স্বামীর উপস্থিতিতে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়। ১৯৯৪ সালে ঐতিহ্যবাহী ষড়াধার প্রতিষ্ঠা সম্পন্ন করে কালো পাথরে মন্দির নির্মাণ ও দেববিগ্রহ প্রস্তুতি শুরু। ১৯৯৫ সালের ৩১ জানুয়ারি তিরুভোনম নক্ষত্রে, ব্রাহ্মমুহূর্তে শ্রী গুরুভায়ুরাপ্পানের প্রাণপ্রতিষ্ঠা হয়। শাস্ত্রজ্ঞ চেন্নাস নারায়ণ নাম্বুদিরি পুজাপদ্ধতি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দিষ্ট করেন। নাম্বুদিরি নির্দিষ্ট পুজোর নির্ঘণ্টই দৈনিক কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয় কেরলে ও কলকাতাতে।
শ্রী গুরুভায়ুরাপ্পান সমাজম কলকাতার সাধারণ সম্পাদক আর জয়কুমার এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট সুভাষ চন্দ্রা জানালেন, তন্ত্রমতে এবং কঠোরভাবে নিয়ম মেনে হয় গুরুভায়ুরাপ্পানের নিত্যপুজো। ক্ষীর পায়সম, গুড় পায়সম, নাইআপ্পান (মালপোয়া) ইত্যাদি হল ঠাকুরের ভোগ। সকাল সাড়ে পাঁচটায় মন্দির খোলে, সাড়ে দশটা পর্যন্ত চলে পুজো। ফের খোলে বিকাল সাড়ে পাঁচটায়। রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত পুজো চলে। প্রতিদিন সকালে শ’খানেকের বেশি মানুষ প্রসাদ পান। বহু বিখ্যাত ব্যক্তি মন্দির দর্শনে এসেছিলেন। বিদেশ থেকেও আসেন অনেক ভক্ত। বিবাহ, অন্নপ্রাশন ইত্যাদি অনুষ্ঠান হয়। মন্দির কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্টানেরও পৃষ্টপোষকতা করে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ