Bartaman Logo
৩১ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ক্ষমতায় এসেই শমীকের বিকল্পের খোঁজ? কেন্দ্রীয় মন্ত্রী করে দিল্লি নিয়ে যাওয়ার ভাবনা বিজেপির

জনসংঘ থেকে বিজেপি। সাড়ে সাত দশকের গেরুয়া ইতিহাসে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার ক্ষমতায় এসেছে পার্টি। সরকার গঠনের একমাস কাটতে না কাটতেই ইতিহাস তৈরি করা দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের বিকল্পের খোঁজ শুরু করল কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

ক্ষমতায় এসেই শমীকের বিকল্পের খোঁজ? কেন্দ্রীয় মন্ত্রী করে দিল্লি নিয়ে যাওয়ার ভাবনা বিজেপির
  • ১২ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

রাজু চক্রবর্তী, কলকাতা: জনসংঘ থেকে বিজেপি। সাড়ে সাত দশকের গেরুয়া ইতিহাসে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার ক্ষমতায় এসেছে পার্টি। সরকার গঠনের একমাস কাটতে না কাটতেই ইতিহাস তৈরি করা দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের বিকল্পের খোঁজ শুরু করল কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সূত্রের দাবি, শমীকবাবুকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্য করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে বঙ্গ জয়ের কান্ডারিকে পুরস্কার হিসাবে পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার ভাবনা রয়েছে কেন্দ্রীয় নেতাদের। এই প্রস্তাবে শমীকবাবু একান্ত রাজি না হলে রাজ্য সরকারের অধীনে কোনও বৃহৎ সংস্থার মাথায় বসানো হতে পারে। প্রসঙ্গত, ৬২ বছর বয়সি শমীকবাবু কয়েক মাস ধরে অসুস্থ। বুধবারই কলকাতার এক হাসপাতালে তাঁর অস্ত্রোপচার হয়েছে। বর্তমানে তিনি বিশ্রামে আছেন। রাজ্যের শাসকদলের প্রধান হিসাবে গোটা রাজ্য চষে বেড়ানো এই মুহূর্তে তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। পাশাপাশি সাংগঠনিক দিক দিয়ে নতুন করে পার্টির খোলনলচে বদলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিল্লি। সেক্ষেত্রে রাজ্য সভাপতিকে যে বাড়তি ধকল নিতে হবে, তা তিনি নিতে অপারগ। সেই সূত্রেই অপেক্ষাকৃত তরুণ মুখকে রাজ্য বিজেপির সভাপতির চেয়ারে বসানোর ভাবনা রয়েছে। প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রয়েছেন পুরুলিয়ার এমপি জ্যোতির্ময় সিং মাহাত। মহিলা মুখ হিসাবে দৌড়ে রয়েছেন লকেট চট্টোপাধ্যায়েও। সব মিলিয়ে বঙ্গ বিজেপির সর্বকালীন সেরা সাফল্য পর্বে পার্টির সর্বোচ্চ পদাধিকারীর বিকল্প খোঁজ—আক্ষরিক অর্থে তাৎপর্যপূর্ণ।  

Advertisement

উল্লেখ্য, ২০২১ সালে বিধানসভা বিপর্যয়ের পর তৎকালীন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে সরিয়ে বালুরঘাটের এমপি সুকান্ত মজুমদারের হাতে দলের ব্যাটন তুলে দেওয়া হয়। তবে ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচন তো বটেই, তার আগের বিভিন্ন ভোটেও বিজেপির ফল ক্রমেই খারাপ হয়েছিল। পাল্লা দিয়ে ধস নামতে শুরু করে পার্টির সাংগঠনিক স্তরে। দলকে খাদের কিনারা থেকে তুলে ২০২৬ সালের ভোটে তৃণমূলের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসাবে প্রতিষ্ঠা দিতে নতুন মুখ চাইছিলেন মোদি-শাহ। তখন সংস্কৃতি মনস্ক, নাটক-কবিতা চর্চায় দক্ষ আদর্শ বাঙালি মুখ শমীক ভট্টচার্যের উপর আস্থা রাখেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। ২০২৫ সালের ৩ জুলাই রাজ্য বিজেপি সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব নেন তিনি। মাত্র এক বছরের মধ্যে পার্টিকে ক্ষমতায় আনার দুর্লভ রেকর্ড তারপরই। শুধু তাই নয়, সুকান্ত জমানায় দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরমে উঠেছিল। আদি-নব্যের সংঘাত রাস্তায় নেমে আসে। সেই জায়গা থেকে দলকে পুরোপুরি শৃঙ্খলায় বাঁধতে সক্ষম হয়েছিলেন শমীক ভট্টাচার্য। দিলীপ ঘোষের মতো আদি নেতা-কর্মীদের দলের মূল স্রোতে ফিরিয়ে বাজিমাত করেন তিনি। সূত্রের দাবি, রাজ্য সভাপতির পাশাপাশি গোটা রাজ্য কমিটিও এই দফায় বদলে দেওয়া হবে। ৪৩টি সাংগঠনিক জেলার সভাপতির অধিকাংশই পরিবর্তন হবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ