Bartaman Logo
১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ডায়মন্ডহারবারে সকাল থেকেই বুথে বুথে লম্বা লাইন মহিলাদের

ডায়মন্ডহারবারে নজির গড়লেন মহিলারা। বুধবার সকাল থেকেই দলে দলে মহিলারা এসেছেন ভোটকেন্দ্রে। প্রতিটি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রেই প্রথম অর্ধে রং-বেরংয়ের শাড়ি-সালোয়ারের লম্বা লাইন। বেলায় অবশ্য পুরুষ ভোটারদের সংখ্যা বেড়েছে। মানুষ উৎসাহের সঙ্গেই ভোট দিয়েছেন এদিন।

ডায়মন্ডহারবারে সকাল থেকেই বুথে বুথে লম্বা লাইন মহিলাদের
  • ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুকান্ত বসু, ডায়মন্ডহারবার; ডায়মন্ডহারবারে নজির গড়লেন মহিলারা। বুধবার সকাল থেকেই দলে দলে মহিলারা এসেছেন ভোটকেন্দ্রে। প্রতিটি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রেই প্রথম অর্ধে রং-বেরংয়ের শাড়ি-সালোয়ারের লম্বা লাইন। বেলায় অবশ্য পুরুষ ভোটারদের সংখ্যা বেড়েছে। মানুষ উৎসাহের সঙ্গেই ভোট দিয়েছেন এদিন। তবে শুরুর দিকে ভোটদানের হার শ্লথ থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে ভোটের হার। ভোট হয়েছে নির্ঝঞ্ঝাটে।

Advertisement

সকাল তখন ৭টা। ডায়মন্ডহারবারের বিভিন্ন ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের সামনে তখন লম্বা লাইন। অনেকেই সকাল ৬টার আগে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েছেন। তাঁদের মধ্যে সিংহভাগই মহিলা। মহিলাদের বক্তব্য, এবারের ভোট অন্য রকম। তাই আগ্রহও বেশি। ভোট দিয়ে তারপর বাড়ি গিয়ে রান্না চাপাতে হবে। অনেকেই বলেন, প্রথম দিকে খুব ধীরগতিতে ভোটগ্রহণ হওয়ায় দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে। কোথাও কোথাও এক-দেড় ঘণ্টাও অপেক্ষা করতে হয়েছে ভোটারদের। এর জন্য অবশ্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও কিছুটা দায়ী। কারণ, তারা লাইন মেনটেইন করতে পারেনি। তবে বুথ থেকে বেরিয়ে সবাইকেই হাসিমুখে বাড়ি ফিরতে দেখা যায়।
ডায়মন্ডহারবার উচ্চ মাধ্যমিক হাইস্কুল থেকে ভোট দিয়ে বেরিয়ে এক গৃহবধূ ও দুই তরুণী বলেন, ‘ভোট শান্তিতেই হয়েছে। এখানে কোনো গণ্ডগোল হয়নি, রক্তপাত হয়নি। আমরা চাই, বারবার এমন পরিবেশেই ভোট হোক।’ আবার যেভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গাড়ি একের পর এক টহল দিয়েছে, তা দেখে স্থানীয়দের মন্তব্য, ‘আচমকা দেখলে মনে হবে, যেন যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব। এমন নিরাপত্তা এর আগে দেখেনি ডায়মন্ডহারবারবাসী।’ এদিন সকালে ডায়মন্ডহারবারের নাইয়া পাড়ার রামনামপুর স্কুলে ভোট দিতে আসেন ১০৫ বছরের নন্দরানি বেরা। তাঁকে অবশ্য লাইনে দাঁড়াতে হয়নি। নিরাপত্তা কর্মীরাই তাঁকে সরাসরি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে নিয়ে যান। এদিন মহিলা ভোটার বিশেষ করে প্রবীণরা অটো-টোটো ভাড়া করে এসেছিলেন ভোট দিতে। কেউ কেউ আবার সাইকেল নিয়ে এসেছিলেন ভোটকেন্দ্রে।
এদিন সকাল থেকেই আকাশ ছিল মেঘলা। মাঝে মধ্যে বিদ্যুতের ঝলকও দেখা গিয়েছে। মাঝে দু’-এক পশলা বৃষ্টি হলেও লাইন ছেড়ে বের হননি মতদাতারা। ছাতা মাথায় ঠায় দাঁড়িয়ে ছিলেন তাঁরা। বরং গ্রীষ্মের প্রখর তাপের পরিবর্তে আবহাওয়া ঠান্ডা থাকায় ভোটদানে মানুষের উৎসাহ আরও বেড়ে যায়। ডায়মন্ডহারবারের রবীন্দ্রভবনে ভোট দিতে আসা কয়েকজন মহিলা বলেন, সকালের দিকে ঠান্ডা আবহাওয়া থাকায় স্বস্তিতেই ভোট দিতে পেরেছি। বৈদ্যপাড়া ও কপাটহাট এলাকার বাসিন্দা দুই গৃহবধূ বলেন, ভোট দিয়ে বাজার করে বাড়ি ফিরব। তারপর রান্নার পালা। তবে বেলা যত বাড়তে থাকে, বিভিন্ন বুথে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ততই বাড়তে থাকে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ