নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বিদ্রোহী ২০ তৃণমূল সাংসদের সদস্যপদ বজায় রাখার ব্যাপারে চাপ ক্রমশ বাড়ছে। সুপ্রিম কোর্টের নোটিস ইস্যুর পর এবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাও চেয়েছেন জবাব। ২০ জনকে আলাদা আলাদা চিঠি পাঠিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন আপনাদের সদস্যপদ খারিজ হবে না, তা যুক্তি সহ আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে লিখিতভাবে জমা দিন। স্পিকারের এই উদ্যোগে একদিকে যেমন মমতাপন্থী তৃণমূল আশার আলো দেখছে, অন্যদিকে তৈরি হচ্ছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষদস্তিদাররাও। আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে স্পিকারকে দেওয়ার জন্য চিঠি তৈরি করছেন তাঁরা। বুধবার কাকলিদেবী বলেন, ‘আইনসিদ্ধভাবেই দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য একজোট হয়ে অন্য দলে গিয়েছি। কোনো বেআইনি কাজ করিনি। আমরা একসঙ্গে চিঠিতে সই করেই দল পরিবর্তনের কথা স্পিকারকে জমা দিয়েছি। তাই এখনকার চিঠির জবাবও একসঙ্গে দেওয়া হবে।’
যদিও বিদ্রোহী ২০ জনেরই সদস্যপদ খারিজ হবে বলেই একপ্রকার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছেন মমতাপন্থী তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘২০ জনেরই সদস্যপদ খারিজ করিয়েই ছাড়ব। শুভেন্দু অধিকারীর অশুভ বুদ্ধির পরিণতি ঈশ্বরই ঠিক করে দেবে। লিখে নিন, এক বছরের মধ্যে বাংলার ২০টি আসনে উপনির্বাচন হবে। দিল্লিতে মোদি সরকারও নড়বড়ে হবে।’ একই মত সুপ্রিম কোর্টের দুঁদে আইনজীবী তথা দেশের প্রাক্তন আইনমন্ত্রী কপিল সিবালের। তিনি বলেছেন, ‘২০ জনের সদস্যপদ খারিজ হয়ে যাবে। এ আবার হয় নাকি? এক দলের প্রতীকে জিতলাম, আর সংসদে এসে এমন একটা দলে যোগ দিচ্ছি, যার সংসদীয় রাজনীতিতে কোনো প্রতিনিধিত্বই নেই। ফলে ওঁদের সদস্যপদ খারিজ স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।’ স্পিকার অবশেষে নড়েচড়ে বসায় কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রও। বলেছেন, ‘এখন কভার আপ করার চেষ্টা করছেন স্পিকার। লোকসভার কক্ষে ওঁদের আসন সংখ্যা বদলানো ছাড়া ১৯ জুন থেকে কিছুই করা হয়নি। এখন নোটিস পাঠাচ্ছেন। তাও সুপ্রিম কোর্টের শুনানির দিনই!’