নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রায় ১৫ কাঠা জমির উপর গড়ে উঠেছে পুর উদ্যান। কিন্তু আইনি জটিলতায় সেই পার্ক চলে যাচ্ছে বেসরকারি হাতে। এমনই দাবি তুলে এবার ‘পার্ক বাঁচাও’ আন্দোলনে নামলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নারকেলডাঙা অঞ্চলের ‘বিবেক উদ্যান’ বাঁচানোর লড়াইয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন পুরসভার পরিবেশ ও হেরিটেজ বিভাগের মেয়র পারিষদ স্বপন সমাদ্দার এবং স্থানীয় কাউন্সিলার পাপিয়া ঘোষ (বিশ্বাস)। তাঁদের বক্তব্য, পুরসভার সম্পত্তির তালিকায় থাকা জমি কীভাবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ব্যক্তিগত মালিকানার হয়ে যেতে পারে, তা তদন্ত করে দেখা দরকার।
মানিকতলা এলাকায় নারকেলডাঙা নর্থ রোডের উপর দেশবন্ধু স্কুলের কাছেই রয়েছে ‘বিবেক উদ্যান’। ২০০৩ সালে এই পার্কটি তৈরি হয়। কিন্তু অভিযোগ, পার্ক তৈরির জন্য পুরসভা যে জমি অধিগ্রহণ করেছিল, তা সঠিক পদ্ধতি মেনে হয়নি। যার পরিপ্রেক্ষিতে মামলা করেন ওই জমির মালিক। এত বছর ধরে চলছিল সেই মামলা। অবশেষে সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, যে আইন মোতাবেক জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল, তা গ্রহণযোগ্য নয়। এখন স্বাভাবিকভাবেই সেই জমি ফিরিয়ে দিতে হবে পুরসভাকে। বিষয়টি জানাজানি হতেই স্থানীয় বাসিন্দারা সরব হন। সম্প্রতি, পার্কের গায়ে পোস্টার দেওয়া হয়েছে। পার্কের উল্টোদিকে মঞ্চ বেঁধে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন বাসিন্দারা। সেখানেই তাঁদের সঙ্গে বিক্ষোভে অংশ নেন মেয়র পারিষদ এবং কাউন্সিলার। স্বপনবাবু বলেন, ‘এই পার্ক পুরসভার সম্পত্তি। পুরসভার খাতায় নথিভুক্ত। এমনকী মিউটেশনও হয়েছে। সেটা কীভাবে ব্যক্তিগত সম্পত্তি হতে পারে! সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে ঠিকই। কিন্তু এটা কেন হল, সেটা তদন্তসাপেক্ষ।’ তাঁর আরও সংযোজন, ‘উদ্যানটি এই অঞ্চলের ফুসফুস।’ পাপিয়া বলেন, ‘এটি এলাকার একমাত্র পার্ক। বাইরের অনেকেও এখানে আসেন। বাচ্চারা খেলাধুলো করে। এই জায়গায় অন্য নির্মাণ হলে পরিবেশের ক্ষতি হবে।’
পুরসভার সার্ভেয়ার বিভাগ সূত্রে খবর, কয়েক দশক আগে ওই জায়গায় পুরসভার ১০ কাঠা জমি ছিল। আশপাশের আরও ৩০ কাঠা জমি পুরসভা অধিগ্রহণ করে। মোট ৪০ কাঠা জমির মধ্যে ১৫ কাঠা অংশে পার্কটি তৈরি হয়েছিল। বাকি জমি খালি পড়েছিল। কিন্তু অধিগৃহীত জমির মালিক আদালতে মামলা জিতে যান। পুরসভার এক আধিকারিক বলেন, ‘পার্ক যেন ভাঙা না হয়, সেই চেষ্টা আমরা করছি। জমির মালিকের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে। তিনি ৩০ কাঠা জমি হাতে পাওয়ার পর পার্কের মধ্যে থাকা পাঁচ কাঠা জমি ৯৯৯ বছরের লিজে পুরসভাকে দিয়ে দেবেন বলে জানিয়েছেন। ফলে পার্কটি রক্ষা পাবে।’ নিজস্ব চিত্র