


সমীর মাহাত ঝাড়গ্রাম
ঝাড়গ্রামের সর্ডিহা ব্রিটিশ বাংলোকে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে হেরিটেজ ঘোষণার দাবি উঠেছে। এখানকার ব্রিটিশ বাংলো, নীলকুঠি, ইংরেজদের গাড়িঘোড়া রাখার জায়গা, কাছারি, অফিসঘর-প্রভৃতি সমস্ত স্থাপত্য রয়েছে। বহু বছর ধরেই এসমস্ত স্থাপত্যকে হেরিটেজ তকমা দেওয়ার দাবি রয়েছে।
ঝাড়গ্রামের সর্ডিহায় ইংরেজদের হেডকোয়ার্টার ছিল। এখান থেকেই ইংরেজরা এলাকার নীলচাষ, রাজস্ব আদায় সহ শাসনব্যবস্থা পরিচালনা করত। স্বাধীনতার পর এসমস্ত ঘর সরকারি কাজে ব্যবহারে উদ্যোগী হয় তৎকালীন রাজ্য সরকার। কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ড. ফুলরেণু গুহর তত্ত্বাবধানে এই স্থাপত্য ওয়েস্ট বেঙ্গল সোস্যাল ওয়েলফেয়ার বোর্ডের হাতে তুলে দেওয়া হয়। প্রাচীর ও বেশ কয়েকটি বাড়ির সংস্কার করা হয়। ১৯৫৭সালে নীলকর সাহেবদের অফিসঘরে তৈরি হয় সর্ডিহা সমাজকল্যাণ গ্রন্থাগার। ইংরেজদের ঘোড়া দেখভালে নিযুক্তদের থাকার ঘরে শিশু বিকাশ সেবা প্রকল্প চালু হয়। ১৯৯৪-৯৫সাল নাগাদ কলকাতার ‘সঙ্কল্প’ নামে একটি সংস্থা এই বাংলোয় একটি হোম তৈরি করে। কয়েকবছর চলার পর হোমটি বন্ধ হয়ে যায়।
বাংলোটি দেখভালের দায়িত্বে থাকা বহড়াকোঠা গ্রামের রঞ্জিত সিং ছাড়া এখন আর কেউ এখানে থাকেন না। স্থানীয়রা এই সমস্ত স্থাপত্যকে হেরিটেজ ঘোষণা করতে একাধিকবার গণস্বাক্ষর-সংবলিত স্মারকলিপি প্রশাসনের কাছে জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই দাবি মানা হয়নি। এখন ভগ্ন নীলকুঠি ঝোপঝাড়ে ভরে গিয়েছে। গ্রন্থাগার ও শিশু বিকাশ সেবা প্রকল্পের সেই অফিস তালাবন্ধ।
এবিষয়ে মানিকপাড়ার বাসিন্দা দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ঝাড়গ্রামের চাইতে সর্ডিহা অনেক আগেই জনবহুল ছিল। সর্ডিহায় ইংরেজদের হেডকোয়ার্টার তৈরির সুবাদে মানিকপাড়ায় সর্ডিহা রেলস্টেশন ও সর্ডিহা গ্রামের পাশে জনবহুল বোম্বে রোড তৈরি হয়। মেদিনীপুরের কালগাঙ বন্দরের সঙ্গে এই বোম্বে রোডের যোগাযোগ ছিল। ১৮৯৫সালে সর্ডিহা স্টেশনের দ্বিতীয় স্টেশন ম্যানেজার হন আমার প্রপিতামহ নটবর বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১১-১২সাল নাগাদ এই ব্রিটিশ বাংলোকে হেরিটেজ তকমা দিতে হেরিটেজ কমিশনের কাছে গণস্বাক্ষর-সংবলিত আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু হেরিটেজ কমিশন কোনও গুরুত্ব দেয়নি।