


নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ব্যবহার করে নানা বয়সের মহিলাদের ছবি বিকৃত করার অভিযোগকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল কোন্নগরে। স্থানীয় বাসিন্দা ফটোকপির দোকানি প্রান্ত রায় এই কাজ করেছেন বলে অভিযোগ। রবিবার স্থানীয় মহিলারা তাকে মারধর, এমনকি জুতোপেটা পর্যন্ত করেন। শেষমেশ অর্ধনগ্ন অবস্থায় তাকে কানাইপুর ফাঁড়ির পুলিশের হাতে তুলে দেন তাঁরা। সেখানে তাঁরা অভিযোগও দায়ের করেছেন। মহিলাদের দাবি, ফটোকপির দোকান থাকায় ওই যুবকের কাছে বিভিন্ন মহিলার ছবি ছিল। সেইসব ছবিকে বিকৃত করে ওই যুবক ভিডিয়ো এবং স্টিল ছবি তৈরি করে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছিল। দিনকয়েক আগে বিষয়টি জানাজানি হয়। এদিন ওই যুবকের দোকানে মহিলারা চড়াও হন।
ওই মহিলাদের একাংশের দাবি, প্রান্তর বিকৃত রুচির হাত থেকে রক্ষা পায়নি এলাকার শিশু-কিশোরীরাও। সেইসব ছবি সে ভিন রাজ্যে, ভিন দেশে এমনকি, পর্ন ওয়েবসাইটেও ছড়িয়ে দিয়েছে বলে সন্দেহ অনেকের। এদিন এক মহিলা বলেন, ওই যুবকের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ আছে। সে বিকৃত ছবি তৈরি করত, তার প্রমাণ মিলেছে। ওর ল্যাপটপে এমন বহু ছবি স্টোর করা আছে। কিন্তু কোথায় কোথায় ছবি পাঠিয়েছে, তা নিয়ে খুবই উদ্বেগে আছি। অন্য এক তরুণী বলেন, আমার ছবি সে পিছন দিক থেকে কোনওভাবে তুলেছিল। তারপর এআই ব্যবহার করে সেটিকে বিকৃত করেছে। আমরা দার্জিলিংয়ে বেড়াতে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে বিষয়টি জানতে পারি। এদিন আমরা জবাব চাইতে এসেছিলাম। তখন জানতে পারি, সে এমন অনেকের ছবি বিকৃত করেছে। কানাইপুর ফাঁড়ির পুলিশ জানিয়েছে, ওই যুবককে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সোশ্যাল সাইটে তার বেশ কিছু অ্যাকাউন্ট রয়েছে। সেগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই যুবকের দাবি, আমি নির্দোষ। ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করে দেখুক। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য শম্পা চক্রবর্তী বলেন, খুবই গুরুতর অভিযোগ। শিশু থেকে কিশোরী, বহু মেয়ের ছবি বিকৃত করা হয়েছে বলে শুনেছি। অভিযোগ সত্যি হলে কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। নাহলে সমাজে ব্যাপক ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে। এমন বিকৃত রুচির মানুষ বিপজ্জনক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কোন্নগরের কানাইপুর বাসাই অটোস্ট্যান্ডের কাছে প্রান্ত রায়ের মুদিখানা দোকান আছে। সেখানেই ফটোকপি করা হয়। এদিন দুপুরে সেখানে হানা দেন একদল মহিলা। তাঁদের ছবি বিকৃত করার অভিযোগ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে তুমুল বচসা হয়। তারপর ওই যুবককে ধরে চড়-থাপ্পড় মারেন মহিলারা। তাকে জুতোপেটা করার পাশাপাশি অর্ধনগ্ন করে কানাইপুর ফাঁড়ির পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। গোটা ঘটনাকে ঘিরে উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে স্থানীয় এলাকায়।