


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নকল গয়না বন্ধক রেখে ঋণ নিয়েছিলেন তিন ব্যবসায়ী। কিন্তু কিস্তির টাকা জমা না পড়ায় ওই সোনার অলঙ্কার নিলাম করতে গিয়ে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ দেখেন, অলঙ্কারগুলি আসল নয়। ঘটনাটি ঘটেছে লিলুয়ার ভট্টনগরে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে। ৫ জুলাই ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে লিলুয়া থানায়। তার ভিত্তিতে তদম্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যবসায়ীরা হলেন, প্রণব দাস, সমীর সাহা ও আশু খাণ্ডেওয়াল।
হাওড়া সিটি পুলিস সূত্রে খবর, লিলুয়ার ওই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে এই তিন ব্যবসায়ীর জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট রয়েছে। ব্যবসায়িক কারণ দেখিয়ে তাঁরা অলঙ্কার বন্ধক রেখে যৌথভাবে বছর পাঁচেক আগে ঋণ নেন। যার পরিমাণ ছিল পঞ্চাশ লক্ষের বেশি। এই গয়নাগুলি আসল হিসেবে শংসাপত্র দেন ব্যাঙ্কের প্যানেলভুক্ত স্বর্ণকাররা। এমনকী ঋণ গ্রহীতাদের তরফে এই সংক্রান্ত একটি সার্টিফিকেট জমা পড়ে। তার ভিত্তিতে ব্যাঙ্ক ঋণ অনুমোদন করে। কিন্তু কয়েকটি কিস্তির টাকা জমা পড়লেও পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। ইএমআই জমা না পড়ায় ব্যাঙ্কের তরফে বারবার নোটিস পাঠানো হলেও উত্তর আসেনি। টাকা শোধ না হওয়া ঋণের অ্যাকাউন্টটি এনপিএ হয়ে যায়। বন্ধক রাখা সোনার অলঙ্কার নিলাম করার সিদ্ধান্ত নেন ব্যাঙ্কের কর্তারা। ২০২৪ সালের ৫ অক্টোবর ঋণ গ্রহীতাদের নোটিস পাঠিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়, অলঙ্কার নিলামে উঠবে। নিলাম করার জন্য ব্যাঙ্কের কর্তারা তাঁদের প্যানেলভুক্ত স্বর্ণকারদের ওই অলঙ্কারগুলি পরীক্ষা করাতে গিয়ে জানতে পারেন, সেগুলি নকল সোনা। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের তরফে লিলুয়া থানায় অভিযোগ করা হলে বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণার ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।
তদন্তে নেমে পুলিস অলঙ্কার বন্ধক রেখে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে সেগুলি আসল সোনা কি না, তা যাচাই করার জন্য কী পদ্ধতি রয়েছে তা নিয়ে তথ্য জোগাড় করে। তদন্তকারীরা জেনেছেন, ব্যাঙ্কের নিজস্ব প্যানেলভুক্ত দুই স্বর্ণকার রাজা রায় ও কার্তিক রায় এগুলি পরীক্ষা করেছিলেন। তদন্তে উঠে আসছে, এক্ষেত্রে ব্যাঙ্কের দুই স্বর্ণকার ঋণ গ্রহীতাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে জানিয়ে দেন সব অলঙ্কার আসল। এমনকী ম্যানেজারও ওই প্যানেলভুক্ত স্বর্ণকারের পরীক্ষা পদ্ধতি যাচাই না করেই ঋণ অনুমোদন করে দেন। পাশাপাশি ঋণ দেওয়ার জন্য যে বিভাগ রয়েছে তাদের ভূমিকাও সন্দেহজনক। যাঁরা এই ঋণ অনুমোদন করেছিলেন পরে সকলেই বদলি হয়ে যান। এমনকী প্যানেলভুক্ত স্বর্ণকাররাও কাজ ছেড়ে দেন। তিন অভিযুক্ত এর আগেও অন্য জায়গা থেকে একই কায়দায় ঋণ নিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তাদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। পাশাপাশি যাঁরা এই প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলেন, তাঁদের সকলকে নোটিস পাঠিয়ে ডাকা হবে।