নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আজ প্রকাশিত হবে প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। বাকি লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি ও আনম্যাপড ভোটারদের যে সমস্যা তারপরেও মিটবে না, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশমতো সেগুলির নিষ্পত্তি করবেন বিচার বিভাগীয় অফিসাররা। যে মুহূর্তে তাঁদের সমস্যা মিটবে, তখনই আপলোড করতে হবে ‘সাপ্লিমেন্টারি’ তালিকা। বিলম্ব করলে চলবে না। পশ্চিমবঙ্গের স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) মামলায় শুক্রবার নির্বাচন কমিশনকে এমনটাই স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। বিচার বিভাগীয় অফিসারদেরও নিরপেক্ষভাবে কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে এদিন উঠে এসেছে আরও একটি বিষয়। তা হল— লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকায় নাম রয়েছে রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীরও। এদিন শুনানিতে বিষয়টি উল্লেখ করে শীর্ষ আদালতের হস্তক্ষেপ চান পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আইনজীবী কপিল সিবাল এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। নন্দিনী নিজেও হাজির ছিলেন এজলাসে। যদিও প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, মুখ্যসচিব হোন বা অন্য কেউ, যাদেরই নোটিস পাঠানো হয়েছে, তাদের উপযুক্ত নথি জমা দিতেই হবে। যাবতীয় সন্দেহ দূর করতে হবে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সমস্যা মেটাতে কাজ করছেন বিচার বিভাগীয় আধিকারিকরা। কিন্তু তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার নামে বহু নথি বাদ দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এদিন এমনই অভিযোগ করেছেন রাজ্য সরকার তথা মামলার অন্যতম আবেদনকারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেন, ডেরেক ও’ব্রায়েনদের আইনজীবীরা। তাঁরা বলেন, ডোমিসাইল সার্টিফিকেটও গ্রহণ করা হচ্ছে না। প্রশিক্ষণের নামে আদতে বিচারবিভাগীয় অফিসারদের একপ্রকার প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে কমিশন। সেই অভিযোগ শুনে সামান্য অসন্তোষ প্রকাশ করেন দুই বিচারপতিই। তাঁরা বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন প্রশিক্ষণ দেবে না তো কারা দেবে? বিচারবিভাগীয় অফিসাররা কী করে জানবেন, কীভাবে কী করতে হবে? তাছাড়া তাঁরা কারো দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার মতো পদে বসে নেই। তাঁরা নিরপেক্ষ হয়েই কাজ করবেন।’ কমিশনের উল্লিখিত নথির পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট আধার এবং মাধ্যমিক অ্যডমিট কার্ড, শংসাপত্রর কথা বলেছে, সেগুলি বজায় থাকবে বলে জানিয়েছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ‘এভাবে সামান্য বিষয়ের জন্য রোজ রোজ পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর মামলার বিষয়টি নিয়ে আদালতে উল্লেখ করবেন না। কোথাও তো থামতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের বাইরে কমিশন গেলে আদালত দেখবে, নিশ্চিন্ত থাকুন!’