Bartaman Logo
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মুর্শিদাবাদে অনুমোদনহীন ২৫টি মাদ্রাসার তালিকা প্রকাশ, উদ্বিগ্ন শিক্ষক-শিক্ষিকারা

সম্প্রতি মুর্শিদাবাদ জেলায় অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত মাদ্রাসার তালিকা প্রকাশ করেছে রাজ্য। তারপরেই ওইসব মাদ্রাসাগুলিতে শিক্ষা সংক্রান্ত নিয়মকানুন ও কাঠামোগত প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।

মুর্শিদাবাদে অনুমোদনহীন ২৫টি মাদ্রাসার তালিকা প্রকাশ, উদ্বিগ্ন শিক্ষক-শিক্ষিকারা
  • ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অভিষেক পাল, বহরমপুর: সম্প্রতি মুর্শিদাবাদ জেলায় অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত মাদ্রাসার তালিকা প্রকাশ করেছে রাজ্য। তারপরেই ওইসব মাদ্রাসাগুলিতে শিক্ষা সংক্রান্ত নিয়মকানুন ও কাঠামোগত প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। এর আগেও জেলায় একাধিক খারিজি মাদ্রাসার অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। জেলা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া একাধিক জঙ্গি ও জঙ্গি গোষ্ঠীর লিঙ্কম্যানদের এই সমস্ত মাদ্রাসায় যাতায়াত এবং শিশুদের মগজ ধোলাইয়ের তথ্য সামনে আনেন গোয়েন্দারা। এবার সরকারিভাবে অবৈধ মাদ্রাসার তালিকা সামনে আসায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। 

Advertisement

প্রকাশিত সরকারি তালিকা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন এলাকা ও থানার অধীনে এই মাদ্রাসাগুলি দীর্ঘদিন ধরে তাদের কাজ পরিচালনা করছিল। এই মাদ্রাসাগুলির ব্যবস্থাপনা, শিক্ষার্থী-শিক্ষক এবং পরিকাঠামো, তহবিলের উৎস সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করার পর এই সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য। জানা গিয়েছে, রাজ্যস্তর থেকেও বিশেষ পরিদর্শক দল পাঠানো হয়েছিল। জেলা ভিত্তিক যাচাইয়ের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রথম পর্যায়ে ২৫২টি মাদ্রাসাকে তাৎক্ষণিক বন্ধ এবং কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও আরও অনেক গুরুতর অসঙ্গতি পাওয়া গিয়েছে। মুর্শিদাবাদে ২৫টি মাদ্রাসার পড়ুয়া, শিক্ষক-শিক্ষকার ভবিষৎও প্রশ্নের মুখে। এর মধ্যে বড়ঞা থানা এলাকার সুন্দরপুর গ্রামের ‘আব্দুল হক সিনিয়র মাদ্রাসা’, মানিকপুর গ্রামের ‘আল মশিনা সিনিয়র মাদ্রাসা’ এবং গ্রামশালিকা এলাকার ‘সাহানারা সিনিয়র মাদ্রাসা’ও রয়েছে। বেলডাঙা থানার ঝুনকা গ্রামের ‘ঝুনকা আল-হাজ আনওয়ারুল হক জুনিয়র মাদ্রাসা’, নওদা থানার নতুনপাড়া গ্রামের ‘রাজপুত নতুনপাড়া মেওয়াজান সিনিয়র মাদ্রাসা’ এবং নবগ্রাম থানার  ‘আরজে সিনিয়র মাদ্রাসা’-র নামও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।
এছাড়া মাড়গ্রামের নগর ‘আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া সিরাজুল উলুম সিনিয়র মাদ্রাসা’, আরাইডাঙ্গা অঞ্চলের নিজগাঁও আসলপুর গ্রামের ‘আসলপুর নবাব মিশন শিশু মাদ্রাসা’, গঙ্গাধ্যারী এলাকার ভোলা গ্রামের ‘ভোলা আবুল কাশেম সিনিয়র মাদ্রাসা’, বেলেপুকুর গ্রামের ‘ছাপগাছি জুনিয়র হাই মাদ্রাসা’ এবং গরিবপুর এলাকার ‘দক্ষিণ গরিবপুর রহমানিয়া শিশু মাদ্রাসা’-র মতো প্রতিষ্ঠানগুলো অনুমোদনহীন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
এছাড়াও কান্দির মহালন্দির ডাঙাপাড়া গ্রামের ‘ডাঙাপাড়া এমএসকে (এমই)’, ভাবতা অঞ্চলের গঙ্গাপুর গ্রামের ‘গঙ্গাপুর এস জোহা সিনিয়র মাদ্রাসা’, শ্রীমন্তপুর এলাকার ঘোড়াইপাড়া গ্রামের ‘ঘোড়াইপাড়া জুনিয়র হাই মাদ্রাসা’, ছাবঘাটি অঞ্চলের খানপুর গ্রামের ‘খানপুর জুনিয়র হাই মাদ্রাসা’ ও ‘রোকিয়া শিশু মাদ্রাসা’, বাঁশগাড়ার লতিবেরপাড়া গ্রামের ‘লতিবেরপাড়া নার্গিস বেগম সিনিয়র মাদ্রাসা’ এবং ডাঙাপাড়ার পাহাড়পুর গ্রামের ‘মওলানা আবুল কালাম আজাদ সিনিয়র মাদ্রাসা’ এই তালিকায় রয়েছে।
তালিকার অবশিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে রয়েছে ‘মোর্চা জুনিয়র রহমানিয়া হাই মাদ্রাসা’ ও শেরপুর গ্রামের ‘শেরপুর নবাব মিশন শিশু মাদ্রাসা এমএসকে’, বেওয়া এলাকার ধর্মডাঙা গ্রামের ‘নওফতাশ বেগম জুনিয়র হাই মাদ্রাসা’, নয়াগ্রাম এলাকার ‘নয়াগ্রাম জুনিয়র হাই মাদ্রাসা’, মুর্শিদাবাদের নতুনগ্রাম এলাকার ‘নতুনগ্রাম একেএম হাসানুজ্জামান হাই মাদ্রাসা’, ধুলৌরি এলাকার পানিাপিয়া গ্রামের ‘পানিাপিয়া আল-হেলাল শিশু মাদ্রাসা’ এবং মিয়াঁগ্রামের ‘মিয়াঁগ্রাম নিজামুদ্দিন আউলিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা’। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উপযুক্ত অনুমোদন ও নির্দেশিকা ছাড়া পরিচালিত এই সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে দ্রুত নিয়মমাফিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ