নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: গতবারের তুলনায় এবার বাঁকুড়ায় পুজোর দিনগুলিতে দ্বিগুণ পরিমাণ টাকার মদ বিক্রি হয়েছে। এবার দুর্গাপুজোর পাঁচদিনে বাঁকুড়ায় মোট ১১ কোটি টাকার মদ বিক্রি হয়েছে। গতবছর ওই সময়ের মধ্যে জেলায় সরকার অনুমোদিত দোকানগুলি থেকে মোট ৫ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকার মদ বিক্রি হয়েছিল। শেষ কবে এক সপ্তাহের মধ্যে এত বেশি মদ বিক্রি হয়েছে, তা আধিকারিকরাও মনে করতে পারছেন না। বাঁকুড়ার মতো প্রান্তিক জেলায় এত বেশি মদ বিক্রির বিষয়টি শোরগোল ফেলে দিয়েছে। এনিয়ে জেলার বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বাঁকুড়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) চিরন্তন প্রামাণিক বলেন, এবছর পুজোর পাঁচদিনে জেলায় ১১ কোটি টাকার মদ বিক্রি হয়েছে। যা গতবারের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
উল্লেখ্য, বাঙালির ‘বারো মাসে তেরো পার্বণের’ মধ্যে দুর্গাপুজো সবচেয়ে বড় উৎসব। ধর্মীয় পুজোপাঠের পাশাপাশি দুর্গাপুজো বিশ্বের সাংস্কৃতিক উৎসবের মানচিত্রেও জায়গা করে নিয়েছে। পুজোপাঠের পাশাপাশি রাতভর উৎসব চলে। উৎসবের আনন্দ উপভোগের পাশাপাশি চলে দেদার খানাপিনা। বছরের অন্যান্য সময় ‘উত্তেজক’ পানীয় থেকে দূরে থাকা অনেকে পুজোর আনন্দে একটু গলা ভিজিয়ে নেন। ফলে মদ বিক্রেতাদের মুখের হাসি চওড়া হয়। ষষ্ঠীর বিকাল থেকেই বাঁকুড়া শহরে মদের দোকানগুলিতে ভিড় লক্ষ্য করা যায়। সন্ধ্যার পর দোকানের সামনে রাস্তার পাশে রীতিমতো লম্বা লাইন পড়ে যায়। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে অনেকে পছন্দের মদের বোতল কিনে ক্লাব, বাড়ি অথবা বন্ধুদের আসরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পুজোর আগে শপিংমলে লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে গিন্নির সঙ্গে ঝগড়া করা রাশভারী কর্তাও দীর্ঘ অপেক্ষার শেষে প্রসন্ন চিত্তে মদের বোতল সযত্নে ব্যাগে ভরে বাড়ি ফেরেন।
এই মদ বিক্রি নিয়ে বিরোধীরা রাজ্যের শাসক দলকে কটাক্ষ করেছে। বিরোধী থাকাকালীন বিজেপি নেতারা মদ ও লটারি বিক্রির বিরুদ্ধে সরব হতেন। পূর্বতন তৃণমূল সরকার মদ বিক্রি থেকে বেশি রাজস্ব আদায় করে বলে তাঁরা কটাক্ষ করতেন। বর্তমানে বিজেপি সরকার চালাচ্ছে। ডাবল ইঞ্জিন সরকারের আমলেও জঙ্গলমহলে কেন রেকর্ড মদ বিক্রি হচ্ছে, তা নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সমাজসেবী সংগঠনের সদস্যরা প্রশ্ন তুলেছেন। প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অলোক মুখোপধ্যায় বলেন, আগে মদ বিক্রি নিয়ে বিজেপি আমাদের সরকারের সমালোচনা করত। এখন তারা কী বলবে?
বাঁকুড়ার বিজেপি বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর দানা বলেন, লটারি বা মদ বিক্রি এখনো রাজ্যে নিষিদ্ধ হয়নি। গণতান্ত্রিক দেশে কে কী পান করবে, তার উপর দল বা সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকতে পারে না। তবে সরকার অনুমোদিত দোকান থেকে পানীয় বিক্রি হওয়ায় পাওয়ায় বিষ মদ খেয়ে মৃত্যুর মতো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে না। মদ খেয়ে অশান্তি সৃষ্টি বা লটারি কেটে স্বর্বস্বান্ত হওয়ার বিরোধী আমরা।



