মুম্বই ও জয়পুর: ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচি ঘিরে ধুন্ধুমার এনডিএ শাসিত দুই রাজ্যে। মহারাষ্ট্রের লাতুর জেলার আওসায় একটি সরকারি স্কুলে পরিদর্শনে গিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। তাঁর দাবি, হতশ্রী দশা ধামাচাপা দিতে অন্য এলাকার স্কুল থেকে ‘ভাড়া করা’ পড়ুয়া এনে বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। স্কুলে পানীয় জলের ব্যবস্থা না থাকলেও মিলেছে মদের বোতল। রাজস্থানের জয়পুরে আবার একটি সরকারি প্রাথমিক স্কুল পরিদর্শনের জন্য গ্রামে ঢোকার সময় সিজেপি প্রতিনিধিদের উপর হামলার অভিযোগ উঠল। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকা সিজেপির সহ প্রতিষ্ঠাতা আশুতোষ রাঙ্কার দাবি, শুক্রবার সকালে স্কুল পর্যন্ত পৌঁছানোর আগেই তাঁদের উপর হেনস্তা ও মারধর করে গ্রাম থেকে বের করে দেওয়া হয়। রাঙ্কার অভিযোগের তির ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরুদ্ধে। এই সিজেপি নেতার দাবি, স্কুলটি একটি গোয়ালের মধ্যে চলে। সেখানে পরিদর্শনের জন্য গ্রামবাসীরাই আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। অথচ, স্থানীয় বিজেপি নেতা আশ্রিত গুন্ডারা তার আগেই চড়ায় হয়। রাজস্থানের শিক্ষামন্ত্রী মদন দিলাওয়ারের নির্দেশে এই হামলা চলেছে। রাঙ্কার তোপ, বিজেপির এই গুন্ডাগিরি আজ গোটা দেশ লাইভ দেখেছে। আমরা ৪৮ ঘণ্টা সময় দিচ্ছি। তার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। নাহলে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী দিলাওয়ারের ইস্তফার দাবিতে রাজস্থানজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হবে।
এদিন জয়পুরের বাগরু বিধানসভার অন্তর্গত রামপুরা কাঁওয়ারপুরায় সরকারি প্রাথমিক স্কুলে পরিদর্শনের লক্ষ্যে সকাল ১০টা নাগাদ গ্রামে পৌঁছান রাঙ্কারা। কিন্তু গ্রামে ঢোকার সময়ই তাঁদের ঘিরে ধরে হেনস্তা, মারধর চলে। সিজেপি প্রতিনিধিদের উদ্দেশে ‘শহুরে নকশাল’, ‘দেশ বিরোধী’, ও ‘পাকিস্তানি’র মতো স্লোগান দেওয়া হয়। রাঙ্কার অভিযোগ, বিজেপির গুন্ডারা আমাদের গাড়ি, মোবাইল ফোন ভেঙে দিয়েছে। হেনস্তা থেকে রেহাই পাননি মহিলারাও। আমাদের এক সদস্যের হাত ভেঙেছে। এর আগে বৃহস্পতিবার সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচি ঘিরে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয় মহারাষ্ট্রের লাতুরে। মুম্বই থেকে ৫০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আওসার এই জেলা পরিষদ স্কুলে পরিদর্শনের ভিডিয়ো এক্স হ্যান্ডলে শেয়ার করেছেন দিপকে। তাঁর দাবি, হতশ্রী দশা ধামাচাপা দিতে পরিদর্শনের ঠিক আগে পড়ুয়াদের মিড ডে মিলের নতুন থালা কেনা হয়। আগের দিন সাফ করা হয় শৌচাগার। তবে স্কুলে এমন পড়ুয়াও ছিল যাদের নাম রেজিস্টারে নেই। অন্য স্কুল থেকে ভাড়া করে এনে তাদের সেখানে বসানো হয়েছিল। পানীয় জলের ব্যবস্থা না থাকলেও স্কুল চত্বরে মদের বোতল পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। তবে নতুন থালা কেনা বা ভাড়া করা পড়ুয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্কুলের প্রিন্সিপাল বালাজি গাওয়ালি। তিনি বলেন, একই ভবনে মারাঠি ও উর্দু মাধ্যমের দু’টি স্কুল চলে। বাইরে থেকে কাউকে আনা হয়নি। সবাই এই স্কুলেরই পড়ুয়া। নতুন থালাও আনা হয়নি। স্কুলের পুরানো থালাতেই পড়ুয়ারা মিড ডে মিল খেয়েছে।