নবজাগরণের আলোকছটায় ভারতীয় সমাজ তখন সদ্য আলোকিত। রামমোহন-বিদ্যাসাগরের সমাজসংস্কার ও শিক্ষা বিস্তারের ধারাবাহিকতায় সমাজে জ্ঞান-বিজ্ঞানের আলো জ্বালাতে এগিয়ে এসেছেন এক দল শিক্ষিত ও প্রগতিশীল মানুষ। সেই আবহে বরানগরের বুকে যিনি সমাজ সংস্কারের মশাল জ্বালিয়ে ছিলেন, তাঁর নাম শশীপদ বন্দ্যোপাধ্যায়। বরানগরের শশীপদ ইনস্টিটিউট লেনে তাঁরই প্রতিষ্ঠিত শশীপদ ইনস্টিটিউট লাইব্রেরি বাংলার প্রাচীন গ্রন্থাগারগুলির মধ্যে অন্যতম। আজ থেকে ১৫০ বছর আগে, ১৮৭৬ সালে ২ জানুয়ারি ইংল্যান্ডবাসী মানবদরদী মিস মেরি কারপেনটার এই লাইব্রেরির দ্বারোদ্ঘাটন করেছিলেন।
Advertisement
সুদীর্ঘ ও গৌরবজনক ইতিহাসের সাক্ষী এই গ্রন্থাগার। এর ভূমিকা সম্পর্কে আলোচনা করতে গেলে আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয় শশীপদ বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর সহধর্মিনী রাজকুমারী বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা। তাঁরা দু’জনেই মুক্ত সমাজ গঠনের স্বপ্ন ও শিক্ষার আলো সমাজের সর্বস্তরে, বিশেষত মহিলাদের মধ্যে পৌঁছে দিতে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেই অদম্য সাহস এবং চিন্তাভাবনাকে বাস্তবে রূপদানের ফসল এই স্কুল ও লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা। তিনি বুঝেছিলেন, সর্বাগ্ৰে প্রয়োজন শিক্ষার প্রসার। এই উপলব্ধি থেকেই তিনি মহিলাদের একত্রিত করে প্রথমে বরানগরের বুকে ছোট ছোট স্কুল (টিনের চালা ঘরে) চালু করেন। পরবর্তী সময় তিনি বরানগরেই স্থাপন করেন রাজকুমারী গার্লস স্কুল ও এই লাইব্রেরি। গ্রন্থাগারে আছে বহু দুষ্প্রাপ্য গ্রন্থ ও দুর্লভ পত্রপত্রিকা। বইয়ের সংখ্যা ১৫ হাজারের বেশি। আছে প্রাচীন ও আধুনিক সাহিত্যের বহু আকর গ্রন্থ ও কিশোর সাহিত্যের সম্ভার। দূরদূরান্তের বহু মানুষ এই গ্রন্থাগারের সদস্য। শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার কেন্দ্র হিসেবে গ্রন্থাগারটির সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন এলাকাবাসী থেকে বিশিষ্টরা। এমন এক প্রতিষ্ঠানের ১৫০ বছর পালনের জন্য গঠিত হয়েছে সার্ধশতবর্ষ উদযাপন কমিটি। বছরভর একগুচ্ছ অনুষ্ঠানের সূচি রয়েছে। একাধিক সেমিনার, বিতর্কসভা, প্রবন্ধ রচনা প্রতিযোগিতা, স্মরণিকা প্রকাশ, পদযাত্রা, প্রদর্শনী চলতে থাকবে।



