Bartaman Logo
২৫ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মধ্যমগ্রামে সরকারি স্কুলের জায়গায় গ্যারাজ বানিয়ে রোজগার বাম নেতার

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমির একাংশ দখল করে গ্যারাজ তৈরির অভিযোগ উঠল এলাকার এক সিপিএম নেতার বিরুদ্ধে।

মধ্যমগ্রামে সরকারি স্কুলের জায়গায় গ্যারাজ বানিয়ে রোজগার বাম নেতার
  • ২৭ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমির একাংশ দখল করে গ্যারাজ তৈরির অভিযোগ উঠল এলাকার এক সিপিএম নেতার বিরুদ্ধে। এর ফলে বিদ্যালয় সংস্কারের জন্য বরাদ্দ টাকা স্কুলে এলেও তা করতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। মধ্যমগ্রামের কবিগুরু শিক্ষা নিকেতনের জমি এভাবে জবরদখল হওয়ায় ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনা নিয়ে যথেষ্ট বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। এনিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ ও মধ্যমগ্রাম পুরসভাতে জমা পড়েছে অভিযোগ। তবে, দখলকারী সিপিএম নেতার দাবি, স্কুলের জমি দখল করা হয়নি।

Advertisement

মধ্যমগ্রাম পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের রবীন্দ্রপল্লিতেই রয়েছে কবিগুরু শিক্ষা নিকেতন। প্রি-প্রাইমারি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়ার সংখ্যা ১১০ জন। স্কুলের পূর্বদিকে রয়েছে একটি ক্লাস ঘর। সেই বিল্ডিংয়ের একেবারে লাগোয়া একটি জমি রয়েছে। সেই জমির মালিক এলাকার সিপিএম নেতা অরূপ বসু ওরফে কুরুর এক আত্মীয়। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব সহ স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, জমির মালিকানা নিয়েও সমস্যা রয়েছে। এদিকে স্কুলের জমির একাংশ জবরদখল করে তাঁরা গড়ে তুলেছেন সাইকেল ও বাইকের গ্যারাজ। গ্যারাজটি চালাচ্ছেন সিপিএম নেতা অরূপ।
এনিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মাধুরী মণ্ডল বলেন, স্কুলের জমি দখল করে তৈরি গ্যারাজ বন্ধ করতে অরূপ বসুকে বারবার বলেছি। উনি কর্ণপাত করছেন না। এদিকে, গ্যারাজ করতে গিয়ে ছাদের জল পাস হওয়ার পাইপ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জল জমে ছাদ নষ্ট হয়েছে। যে কোনও সময় চাঙর ভেঙে বিপত্তি ঘটতে পারে। গ্যারাজের জন্য ক্লাসঘরের জানালা খোলা যাচ্ছে না। তাছাড়া স্কুল সংস্কারের জন্য ৪ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়ে পড়ে আছে। আমি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ ও পুরসভাকে বিষয়টি জানিয়েছি।
এনিয়ে সিপিএম নেতা অরূপ বসু জানিয়েছেন, স্কুলের জমি দখল করে কোনও গ্যারাজ করা হয়নি। প্রধান শিক্ষিকা দলিল দেখিয়ে এটা সরকারি জমি বলে প্রমাণ করতে পারলে স্কুল কর্তৃপক্ষকে জমি ফিরিয়ে দেব। আর মধ্যমগ্রামের বিধায়ক তথা খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ বলেন, আমি চাই প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ যেন বিষয়টি খতিয়ে দেখে স্কুলের জমিতে সীমানা দেওয়াল দিয়ে দেয়। এনিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান দেবব্রত সরকার বলেন, কোনওভাবেই সরকারি জমি দখল করে বেআইনি দখলদারি করতে দেওয়া হবে না। স্কুল পরিদর্শককে পাঠিয়ে বিষয়টি সরেজমিনে খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনে আমি নিজে পরিদর্শনে যাব।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ