সৌগত গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: ২০১৮ সালে শেষবার চ্যাম্পিয়ন! তারপর গঙ্গা দিয়ে অনেক জল বয়ে গিয়েছে। কিন্তু, গোষ্ঠপাল সরণি হয়ে কলকাতা লিগের ট্রফি আর মোহন বাগান তাঁবুতে ঢোকেনি। এবার দারুণ সুযোগ দীর্ঘ ৭ বছরের খরা কাটানোর। শনিবার বারাসত স্টেডিয়ামে মহমেডান স্পোর্টিংকে হারালেই চ্যাম্পিয়ন পালতোলা নৌকা। মর্যাদার মিনি ডার্বিতে মোহন বাগানের তুরুপের তাস হতে পারেন ছাংতে। শুক্রবারের অনুশীলনে এই মিজো উইঙ্গারকে রেখেই ঘুঁটি সাজাতে দেখা গেল মোহন বাগান কোচকে। মনবীর-সাহালও তৈরি! অন্যদিকে, মরিয়া মহমেডান। ক্লাবের চরম ডামাডোল পরিস্থিতিতেও খেতাবের অন্যতম দাবিদার সাদা-কালো ব্রিগেড। সুপার সিক্স পর্বে মোহন বাগানের মতো তাদের পয়েন্টও ৪। অর্থাৎ, শনিবার জিতলে ২০২৩ সালের পর ফের ঘরোয়া লিগের খেতাব যাবে রেড রোড সংলগ্ন ক্লাবে। ফুটবলারদের উদ্বুদ্ধ করতে আগাম আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করেছেন মহমেডান কর্তারা। সবমিলিয়ে অনেকেরই ধারণা, অভিজ্ঞতায় এগিয়ে মোহন বাগান। সাদা-কালোর ভরসা টিম-স্পিরিট।
শুক্রবার মোহন বাগানের কিট স্পনসরের শ্যুটিং ছিল। তার জন্য তাঁবুতে উপস্থিত ছিলেন বেশ কিছু সবুজ-মেরুন সমর্থক। প্র্যাকটিসের আগে সাহাল-মনবীরদের কাছে একটাই আকুতি, ‘ডুরান্ড হাতছাড়া হয়েছে। ঘরোয়া লিগ জিততেই হবে।’ ফুটবলাররাও মাঠে সেরাটা উজাড় করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। সেই তাগিদ ধরা পড়ল প্র্যাকটিসে। মূলত পানাজিওটিসের তত্ত্বাবধানেই অনুশীলন সারল টিম। সিচুয়েশন প্র্যাকটিসে বড় চমক ছাংতে। তাঁকে রাইট উইংয়ে তাঁকে রেখেই চলল চূড়ান্ত মহড়া। অবশ্য ঘরোয়া লিগে এখনও পর্যন্ত ছাংতে একটি ম্যাচও খেলেনি। ভারী মাঠে তাই তাঁকে শুরু থেকে খেলানো হবে নাকি পরিবর্ত হিসাবে ব্যবহার করবেন কোচ, তা পরিষ্কার নয়। আপফ্রন্টে কিয়ান-মনবীরও চনমনে। পাঞ্জাবি স্ট্রাইকারের ফর্ম ভরসা জোগাচ্ছে ম্যানেজমেন্টকে। ফিডারের ভূমিকায় সাহাল। মাঝমাঠে বঙ্গসন্তান সন্দীপ মালিকের সঙ্গী হতে পারেন দীপক টাংরি। রক্ষণভাগে রাজ বাসফোর, শুভাশিস, রাহুল ভেকে ও রবিলাল মান্ডি। কাগজে কলমে হেভিওয়েট দল। সিনিয়র ফুটবলার শুভাশিস বলছিলেন, ‘অঙ্কের জটিলতায় যেতে চাই না। মহমেডানকে হারিয়ে লিগ চ্যাম্পিয়ন হতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ দল।’
এদিকে, মহমেডানের কোচ সৈয়দ রামন মোহন বাগানকে চ্যালেঞ্জ ছুড়তে তৈরি। তাঁর কথায়, ‘ওরা অবশ্যই শক্তিশালী টিম। তবে আমাদের ছেলেদেরও অভিজ্ঞতা আছে আইএসএলে খেলার। লিগ জয়ের লক্ষ্যে মাঠে জান লড়িয়ে দেবে ওরা।’ আক্রমণভাগে গোলের মধ্যে আছেন ইসরাফিল দেওয়ান। মাঝমাঠে বড়ো ভরসা মহীতোষ রায়। সব মিলিয়ে বারাসতে সেয়ানে সেয়ানে টক্করের অপেক্ষায় সমর্থকরা।
বারাসত স্টেডিয়ামে খেলা শুরু বিকেল তিনটেয়। সম্প্রচার নাম্বার ১০ স্পোর্টস অ্যাপে।