


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রয়াত প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুকুল রায়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন তিনি। বাইপাস সংলগ্ন এক বেসরকারি হাসপাতালে দীর্ঘ ৬০০ দিন ভর্তি ছিলেন। সেখানেই গভীর রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস গঠিত হওয়ার পর তিনিই ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। এক সময় রাজনৈতিক মহলে তিনি পরিচিত ছিলেন ‘তৃণমূলের চাণক্য’ হিসাবে। একদা তৃণমুল নেত্রীর অন্যতম আস্থাভাজন ছিলেন মুকুল রায়। রাজ্যসভার সাংসদও নির্বাচিত হয়েছিলেন। মনমোহন সিং এর ইউপিএ ২ সরকারের আমলে তিনি ছিলেন জাহাজ প্রতিমন্ত্রী। পরবর্তীকালে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর দায়িত্বও সামলেছেন।
২০১৮ সালে হঠাৎই তৃণমূল ছেড়ে তিনি যোগ দেন বিজেপিতে। ২০২১ সালে কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে ভোটে জিতে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন মুকুল। যদিও বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক বেশি দিন টেকেনি। ২০২১ সালেই ফের পুরনো দলে ফেরন তিনি।
মুকুল রায়ের ফের তৃণমূলে যোগদানের পরই দলত্যাগ বিরোধী আইনে তাঁর বিধায়ক পদ খারিজের দাবিতে সরব হয় বিজেপি। বিধানসভার স্পিকার তার পদ খারিজ করতে অস্বীকার করায় মামলা গড়ায় কলকাতা হাইকোর্টে। হাইকোর্ট মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজের নির্দেশ দিলেও, সুপ্রিম কোর্ট মানবিক দিক থেকে বিবেচনা করে হাইকোর্টের রায়ের ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করে। যার জেরে বিষয়টি এখনও বিচারাধীন। এখনও কৃষ্ণনগর উত্তরের বিধায়ক মুকুল রায়ই।
তবে শারীরিক অসুস্থতার জন্য গত কয়েক বছর প্রতক্ষ্য রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন মুকুল রায়। এই বর্ষীয়ান এই রাজনৈতিক নেতার প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মীর প্রয়াণে তিনি বিচলিত এবং মর্মাহত। শোক জানান তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শোকপ্রকাশ করেছেন কংগ্রেসের অধির চৌধুরি, সিপিআইএমের সুজন চক্রবর্তী।