চারদিক সাদা বরফে ঢাকা। সঙ্গে লাগাতার তুষারঝড়। পর্বতের খাঁজ বেয়ে উপরে উঠতে গিয়ে পিছলে কিছুটা নেমে যাওয়ার দশা। বরফের মরণকামড়ে হাতের আঙুল যেন লোহা হয়ে গিয়েছে। শরীর অসম্ভব ক্লান্ত। মাথাটা যন্ত্রণায় ফেটে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে, এখনই দম আটকে যাবে। তারপরও হার না মানার অদম্য শক্তিকে সঙ্গী করে একটু একটু করে উপরের দিকে এগনো। লক্ষ্য একটাই। পৃথিবীর সর্বোচ্চ শিখর ছোঁয়া। ব্যবধান আর মাত্র ৫৮ মিটারের। আর এখানেই রয়েছে সেই মরণফাঁদ। হিলারি স্টেপ। উচ্চতা ৮ হাজার ৭৯০ মিটার। মাউন্ট এভারেস্ট জয়ের সর্বশেষ এবং সবচেয়ে বড় প্রতিকূল জায়গা। এভারেস্ট জয়ের পর নামার সময় সেখানেই সদ্য প্রাণ হারিয়েছেন বাঙালি পর্বতোরোহী ৪৫ বছরের সুব্রত ঘোষ। সর্বোচ্চ শিখর ছুঁয়ে দেশের মাথা উঁচু করলেও হিলারি স্টেপের দুর্গমতাই তাঁর প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। কী এই হিলারি স্টেপ আর কেনই তার এমন নাম? এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছনোর আগে প্রায় ৪০ ফুটের একেবারে খাড়া এক পথ। রাস্তা এতটাই দুর্গম যে সেটিকে ক্লাস ফোর অর্থাৎ সবচেয়ে কঠিন ক্লাইম্বিং হিসেবে গণ্য করা হয়। ১৯৫৩ সালের ২৯ মে নিউজিল্যান্ডের অভিযাত্রী স্যার এডমন্ড হিলারি এবং ভারতীয় শেরপা তেনজিং নোরগে ভয়ানক ওই পথ অতিক্রম করে এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছন। তাঁদের মুখেই প্রথম এভারেস্টের সেই মরণফাঁদের অভিজ্ঞতা শোনা যায়। সেই থেকেই এডমন্ড হিলারির নামে এই পথের নাম হয় হিলারি স্টেপ। তবে এটাও জানা গিয়েছে, ২০১৫ সালের নেপাল ভূকম্পে হিলারি স্টেপ অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞই বলছেন, এর ফলে ওই পথ এখন আগের থেকে সুগম। যদিও তার কোনও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই। তাই আজও শিখর জয়ের স্বপ্ন স্বার্থক হওয়ার কিছু আগেই দাঁড়িয়ে সবচেয়ে বড় কাঁটা। সেটা অতিক্রম করে উঠে গেলেও ফেরা একটা বড় চ্যালেঞ্জ।



