


নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: ধসে বিধ্বস্ত পাহাড়। বুধবার বিকেলে দার্জিলিং পাহাড়ে ধসে চাপা পড়ে শিশুকন্যা সহ দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। এর বাইরে বাড়ি, রাস্তা ও টয়ট্রেনের লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আপাতত বন্ধ করা হয়েছে পাহাড়গামী টয়ট্রেন পরিষেবা। বৃষ্টির জেরে এমন পরিস্থিতি বলে জানিয়েছে দার্জিলিং জেলা প্রশাসন। সমগ্র ঘটনায় পাহাড়বাসী রীতিমতো আতঙ্কিত। এদিকে, ফুঁসছে তিস্তা ও জলঢাকা নদী।
দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক প্রীতি গোয়েল অবশ্য বলেন, বৃষ্টির জেরে পাহাড়ে পাথর আলগা হয়েছিল। তা কোনওভাবে পড়ে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর মিলেছে। মৃতদেহ দু’টি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এর বাইরে পাহাড়ের কয়েকটি এলাকায় ধসের ঘটনা ঘটেছে।
এদিন বিকেলে দার্জিলিংয়ের পুলবাজার ব্লকের লোয়ার গোখে এলাকায় ঘোরাঘুরি করছিলেন স্থানীয়রা। আচমকা সেখানে একটি বাড়ির পাশের অংশ হুড়মুড়িয়ে ধসে পড়ে। পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সেই ধসে পড়া বাড়ির অংশে চাপা পড়ে দু’জনের মৃত্যু হয়। মৃতদের নাম প্রণীত যোগী (৩২) ও সামান্তা সুব্বা (৬)। প্রথম জন আর্থমুভারের চালক। কার্শিয়াংয়ে তাঁর বাড়ি। তিনি কর্মসূত্রে লোহার গোখে এলাকায় এসেছিলেন। আর মৃত শিশুর বাড়ি স্থানীয় এলাকাতেই।
মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার বিকেল পর্যন্ত দার্জিলিং পাহাড়ের একাধিক জায়গায় নামে ধস। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, শৈলশহরের ৫, ১২, ১৩, ১৪ ও ২৩ নম্বর ওয়ার্ড ধসে বিপর্যস্ত। সংশ্লিষ্ট পাঁচটি ওয়ার্ডে দু’টি রাস্তা ও তিনটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিছু এলাকায় পাহাড়ের উঁচু অংশ থেকে মাটি, পাথর ধসে রাস্তায় পড়েছে। আবার কিছু জায়গায় রাস্তার মাটি ধসে গিয়েছে। যার জেরে বিপজ্জনকভাবে ঝুলছে একটি বাড়ি। ধসে ও গাছ পড়ে সুখিয়াপোখরি ও রংলি রংলিয়ট ব্লকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও দু’টি বাড়ি। এদিন শ্বেতীঝোরার কাছে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের উপরও ধস নামে।
প্রশাসনের আধিকারিকরা বলেন, দু’দিন ধরে বৃষ্টি চলায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দ্রুত ধসের মাটি ও পাথর সরিয়ে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরে যেতে বলা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দার্জিলিং পাহাড়ে বৃষ্টি হয়েছে ৭২ মিলিমিটার।
এদিকে, গয়াবাড়ি ও তিনধরিয়ার মাঝে টয়ট্রেনের লাইনেও নেমেছে ধস। যার জেরে বাতিল করা হয়েছে টয়ট্রেন পরিষেবা। দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন এনজেপি থেকে দার্জিলিংয়ের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট সময়ে রওনা দেয় টয়ট্রেন। গয়াবাড়ি পৌঁছনোর পর ট্রেন আর এগতে পারেনি। লাইনে ধস নেমে আসায় ট্রেনটি বাতিল করে যাত্রীদের সড়ক পথে দার্জিলিংয়ে পৌঁছনোর ব্যবস্থা করা হয়। আজ, বৃহস্পতিবার দার্জিলিং-এনজেপি টয়ট্রেনও বাতিল করা হয়েছে। ডিএইচআরের ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী বলেন, চেষ্টা করেও লাইন থেকে ধস সরানো সম্ভব হয়নি। তাই ২৮ জন পর্যটককে সড়ক পথে দার্জিলিং পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, পাহাড়ে বৃষ্টির জেরে সমতলে তিস্তা ও জলঢাকা নদীর জলস্তর বেড়েছে। জলপাইগুড়ির দোমোহনি থেকে মেখলিগঞ্জ এবং মেখলিগঞ্জ থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত তিস্তার অসংরক্ষিত এলাকায় হলুদ সঙ্কেত জারি করেছে সেচদপ্তর।
নিজস্ব চিত্র।