কংসাবতীর তীরে ছোট জনপদের নাম লালগড়। নদীর কাছেই রাজবাড়ি। এই রাজবাড়ি ঘিরে রয়েছে নানান কাহিনি। কথিত আছে, বর্গি আক্রমণের সময় নবাব আলিবর্দি খাঁ সৈন্য নিয়ে মেদিনীপুরের কাছে শিবির করেছিলেন। সেই সময়ে নবাবের শিবিরে একটি বাঘ হানা দিচ্ছিল। নবাবের সৈন্যরা বাঘটিকে মারতে ব্যর্থ হলে, রাজবাড়ির দুই ভাই বাঘটিকে শিকার করেন। নবাব তাঁদের সাহসে মুগ্ধ হয়ে ‘সাহস রায়’ উপাধি দিয়েছিলেন। আগেকার প্রভাব-প্রতিপত্তি আজ না থাকলেও সেই উপাধি আজও বহন করে চলেছেন বংশের উত্তরপুরুষরা। রাজবাড়ির ঐতিহ্য রক্ষায় আজও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উত্তরপুরুষ অশীতিপর প্রশান্তকুমার সাহস রায়। সাহস রায় রাজারা একসময়ে লালগড়ে রাজত্ব করতেন। ইউরোপের গথিক শৈলীতে নির্মিত এই বিশাল রাজবাড়ি জৌলুস হারিয়েছে বহু আগেই। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সাহস রায়দের রাজত্ব চলে যায়। সাড়ে তিনশো বছরের ক্ষয়িষ্ণু রাজবাড়ি অতীত স্মৃতি নিয়ে এখনও কোনওমতে টিকে রয়েছে। লালগড় এস আই চকের সামান্য দূরে সেই প্রাচীন রাজবাড়িতে আজও থাকেন রাজ পরিবারের বর্তমান বংশধরদের একাংশ।
ভিতর মহলের ফাঁকা জায়গা ঝোপঝাড়ে ভরে গিয়েছে। দেওয়ালের পলেস্তারা খসে পড়েছে। রাজবাড়ির একাধিক ভাঙা দরজা কোনওরকমে ঠেস দিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। সাহস রায় রাজারা এক সময় রাজবাড়ির প্রাঙ্গণে দরবার বসাতেন। কংক্রিটের সিংহাসন বানিয়ে জায়গাটি চিহ্নিত করে রাখা হয়েছে।
শোনা যায়, রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা গুণচন্দ্র ও উদয়নচন্দ্র ভট্ট মধ্যপ্রদেশের এটাওয়া জেলা থেকে ভাগ্য সন্ধানে এসেছিলেন। তাঁদের হাত ধরেই রামগড় ও লালগড় রাজবংশের পত্তন হয়েছিল।



