গোপাল সূত্রধর, বালুরঘাট: দুর্গাপুজো নয়। লক্ষ্মীপুজো গ্রামের প্রধান উৎসব। বালুরঘাটের পোড়ামাধইল, দুর্লভপুর ও গুপীনগর এই তিন গ্রাম লক্ষ্মীপুজোয় মেতে ওঠে। আর এই তিন গ্রামে দেবী লক্ষ্মীর সঙ্গে চলে রাম, লক্ষ্মণ, সীতা ও হনুমানের আরাধনা। কোথাও ৩০০ বছরের পুরোনো পুজো। কোনোটি শতাব্দী প্রাচীন। এক থেকে চারদিন ধরে চলে মেলা, যাত্রাপালা, নাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এই সব গ্রামে লক্ষ্মীপুজো কার্যত মিলনোৎসবের রূপ নেয়।
বালুরঘাটের পোড়ামাধইল গ্রামের বারোয়ারি লক্ষ্মীপুজো প্রায় ৩০০ বছরের প্রাচীন। এখানে লক্ষ্মীর পাশাপাশি পুজো করা হয় রাম, লক্ষ্মণ ও সীতাকে। এটাই এখানকার প্রাচীন রীতি। লক্ষ্মী এখানে সীতার রূপে পূজিতা হন। কথিত রয়েছে, সীতা যখন বনবাসে গিয়েছিলেন সেই সময় দেবী লক্ষ্মীকে সীতা রূপে পুজো হয়েছিল। গ্রামের ফসল যাতে আরও শস্যশ্যামলা হয় সেই আশায় ৩০০ বছর আগে গ্রামে এই পুজো শুরু হয়েছিল। লক্ষ্মীর সঙ্গে রাম, লক্ষ্মণ, সীতার পাশাপাশি থাকেন লব, কুশ ও হনুমান। তাঁদেরও পূজো করা হয়। দেবীর পরণে থাকে গেরুয়া বসন।
এই লক্ষ্মীপুজো কমিটির সম্পাদক রিন্টু বসাক বলেন, আমাদের পুজো প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো। এখানে লক্ষ্মীর সঙ্গে রাম, লক্ষ্মণ ও সীতার পুজো হয়। গ্রামের প্রাচীন এই রীতি ও ঐতিহ্য আমরা আজও ধরে রেখেছি। নিয়মনিষ্ঠার সঙ্গে প্রতিবছর পুজো করা হয়। পুজোকে কেন্দ্র করে চারদিন ধরে মেলা হবে। পাশাপাশি যাত্রা ও নাটকের আয়োজন থাকছে।
বালুরঘাটের দুর্লভপুরে একইভাবে লক্ষ্মী আরাধনা হয়। এখানেও লক্ষ্মীর পাশে থাকেন রাম, লক্ষ্মণ ও সীতা। সীতাকেই লক্ষ্মীর রূপে পূজো করা হয়। প্রাচীন কাল থেকে ওই গ্রামে একই ভাবে পুজো করে আসছেন গ্রামবাসীরা। দুর্গা প্রতিমার মতো একই কাঠামোতে লক্ষ্মী, রাম, লক্ষ্মণ থাকেন। চারদিন ধরে চলে যাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নাটক।
গ্রামের বাসিন্দা প্রীতম সরকার বলেন, প্রায় ১০০ বছর ধরে আমাদের এই গ্রামে লক্ষ্মী আরাধনা হয়। প্রাচীনকাল থেকে লক্ষ্মীর সঙ্গে রাম, লক্ষ্মণ থাকেন। সীতাকে এখানে লক্ষ্মীর রূপে পুজো করা হয়। চারদিন ধরে নানা ধরনের উৎসব চলবে।
একইভাবে বালুরঘাটের জলঘর গ্রাম পঞ্চায়েতের গুপীনগর গ্রামে লক্ষ্মী দেবীর সঙ্গে রাম, লক্ষ্মণ, সীতার পূজো করা হয়। গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তিদের মত অনুসারে, গ্রামে এক সময় উৎপাদিত ফসল নষ্ট হয়ে যেত। চাষীরা ক্ষতির মুখে পড়তেন। সেই সময় থেকে লক্ষ্মীর সঙ্গে রাম, লক্ষ্মণ পূজো শুরু হয়। সেই থেকে প্রায় ৮০ বছর ধরে একই ভাবে পুজো করে আসছেন গ্রামের বাসিন্দারা।
পুজো কমিটির সদস্য অনুপ দাস বলেন, আগে গ্রামের বয়স্ক প্রবীণ ব্যক্তিরা এই পুজো করতেন। তাঁদের অবর্তমানে আমরা এই পুজো করছি। আমাদের এখানে একদিন মেলা হয়।



