Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মাহেশে আজ স্বামীকে বশ করতে যাবেন লক্ষ্মীদেবী, শুক্রবার গুপ্তিপাড়ায় ভাণ্ডারলুট

স্বামী গিয়েছেন মাসির বাড়ি। কিন্তু তিনদিন পরেও স্বামী না ফেরার স্ত্রীর সন্দেহ হয়। তিনি জানতে পারেন, সেখানে অন্য মহিলাদের সঙ্গে ‘লীলা’ করছেন তিনি।

মাহেশে আজ স্বামীকে বশ করতে যাবেন লক্ষ্মীদেবী, শুক্রবার গুপ্তিপাড়ায় ভাণ্ডারলুট
  • ১ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: স্বামী গিয়েছেন মাসির বাড়ি। কিন্তু তিনদিন পরেও স্বামী না ফেরার স্ত্রীর সন্দেহ হয়। তিনি জানতে পারেন, সেখানে অন্য মহিলাদের সঙ্গে ‘লীলা’ করছেন তিনি। ঩ক্ষিপ্ত স্ত্রী তখন দেবী কামাখ্যার মন্ত্রপূত সরষে পোড়া নিয়ে স্বামীকে বশীকরণ করতে যান। আশ্চর্য এই যে, সেই বশীকরণের প্রভাবেই স্বামীর মন আবার বাড়ির জন্য উচাটন হয়ে ওঠে। কোনও সাধারণ পরিবার নয়, এ গল্প জগৎপ্রভু জগন্নাথ আর তাঁর স্ত্রী লক্ষ্মীদেবীর। রথযাত্রার পরে আজ, মঙ্গলবার আরও একটি উৎসব হুগলির ঐতিহ্যবাহী মাহেশের মন্দিরে। লক্ষ্মীদেবী সরষে পোড়া নিয়ে পালকি করে যাবেন জগন্নাথের মাসির বাড়ি। ভক্তকণ্ঠে সুর উঠবে, ‘সরষে করে চড়বড়, জগন্নাথের মন ধড়ফড়’।

Advertisement

স্বামীর মন ফেরাতে এ যদি স্ত্রীর এহেন উদ্যোগের রকমফেরও আছে। সেটিও উৎসব। তা পালন হয় হুগলির বলাগড়ের গুপ্তিপাড়ায়। সেখানেও লক্ষ্মীদেবী স্বামীকে সন্দেহ করে সরষে পোড়া দেন। সেই আয়োজন সোমবারই হয়েছে। কিন্তু তারপরেও জগন্নাথ বাড়ি ফিরবেন না। তখন তিনি ভাবেন, মাসির বাড়িতে সুস্বাদু খাবারের আকর্ষণেই পেটুক স্বামী  ফিরছেন না। তাই তিনি ‘গুন্ডা দল’ পাঠিয়ে দেন। তারা মাসির বাড়ির যাবতীয় খাদ্যভাণ্ডার লুট করে। অভুক্ত জগন্নাথ পরদিনই ঘরে ফেরেন। সেটিই ভাণ্ডারলুট নামে খ্যাত। আগামী ৪ জুলাই সেই উৎসব হবে শতাব্দী প্রাচীন গুপ্তিপাড়ার জগন্নাথ মন্দিরে। মোটের উপরে স্বামীকে নিয়ে স্ত্রীর মনুষ্যজনোচিত সন্দেহের জেরেই দুটি উৎসবের আর্বিভাব হয়েছে। ৫ জুলাই উল্টোরথ। তার আগে ওই দুই উৎসবকে ঘিরে হুগলির দুই প্রান্তে এখন সাজো সাজো রব। 
মাহেশ জগন্নাথ মন্দিরের সেবায়েত পিয়াল অধিকারী বলেন, ‘আমাদের মাসির বাড়ি আসলে জগন্নাথদেবের কুঞ্জবাটি। সেখানে তিনি লীলা করতেই যান। লক্ষ্মীদেবী সরষে পোড়া দিয়ে বশীকরণ করেন এবং রাগ করে রথের অংশ ভেঙেও দেন। ওই উৎসবকে বলি, হোড়া পঞ্চমী—আজ, মঙ্গলবার হবে।’ 
অন্যদিকে, গুপ্তিপাড়া রথযাত্রা আয়োজক কমিটির অন্যতম বিশ্বজিৎ নাগ বলেন, ‘আমাদের সরষে পোড়া অনুষ্ঠান আছে। কিন্তু তারপরেও জগন্নাথ ঘরে ফেরেন না। তাই লক্ষ্মীদেবীর নির্দেশে ভাণ্ডারলুট হয়। গুপ্তিপাড়ার সেই ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান আগামী শুক্রবার হবে। তারপর দিন উল্টোরথ।’
জগন্নাথ ভক্তদের মতে, জগন্নাথের মাসি আসলে তাঁর নিজের মাসি নয়, কেবলমাত্র দেবলীলার অঙ্গ। কিন্তু সেই মাসির বাড়ি যাওয়াকে কেন্দ্র করে ঘটে যায় দেব পরিবারে মানুষের মতো স্বামী-স্ত্রীর সন্দেহ, মান-অভিমান পর্ব। মাহেশে মাসির বাড়ি থেকে ফেরার পরেও অভিমানী লক্ষ্মীদেবী জগৎপ্রভুকে মন্দিরে ঢুকতে দেন না। আপামর স্বামীর মতোই তখন তাঁকে রাজভোগ, শাড়ি-গয়না আর ঘুরতে যাওয়ার আশ্বাস দিতে হয়। দেবতার মানভঞ্জন পর্বে ভক্তদের জন্য জুটে যায় একাধিক উৎসব।

সম্পর্কিত সংবাদ