নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: আগামী সাতদিনের মধ্যে খুলতে হবে বন্ধ চা বাগান। তা না হলে বাগান অধিগ্রহণ করে ঠিকাদারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হবে। শুক্রবার শিলিগুড়িতে চা বাগান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকের পর একথা বলেন শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং। একই সঙ্গে তিনি বলেন, মাত্র সাড়ে তিন মাসে পিএফের বকেয়া ১০০ কোটি টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। পিএফ খেলাপিতে অভিযুক্ত ২৮টি বাগানের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে। চা বাগান ও শিল্প সুষ্ঠুমতো চালাতে গঠন করা হয়েছে বিশেষ টাস্ক ফোর্স।
উত্তরবঙ্গের অন্যতম শিল্প চা। পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্সে ছড়িয়ে অসংখ্য চা বাগান। বিভিন্ন কারণে বেশকিছু বাগান বন্ধ। কিছু বাগান কোনোরকমে চলছে। শ্রমিকরা চরম সংকটে। এদিন দাগাপুরে শ্রমিক ভবনে শ্রমমন্ত্রীর বৈঠকে বিষয়গুলি নিয়ে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়। সেখানে মন্ত্রী বন্ধ বাগান কর্তৃপক্ষকে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দেন।
বৈঠকের পর মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে উত্তরবঙ্গে বন্ধ চা বাগানের সংখ্যা ২১টি। আরও ১০ থেকে ১১টি বাগান স্থানীয় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চলছে। শ্রমিকরা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। আবার কিছু বাগান অনিয়মিত চলছে। আগামী সাতদিনের মধ্যে বাগানগুলি খুলতে হবে। বন্ধ বাগানগুলির মালিকদের এই সময়সীমা স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তা মানা না হলে অধিগ্রহণ করবে সরকার। পরবর্তীতে আগ্রহী ঠিকাদারি সংস্থার হাতে হস্তান্তর করা হবে।
ঠিকাদারি সংস্থার দক্ষতা কী হবে? মন্ত্রীর সাফ বক্তব্য, যে সমস্ত ঠিকাদারি সংস্থা শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি এবং পিএফ মেটাতে আগ্রহী, তাদেরই চা বাগানের দায়িত্ব দেওয়া হবে। এজন্য তাদেরকে অগ্রিম বকেয়া মজুরি ও পিএফের টাকা জমা রাখতে হবে। তা না হলে কোনো সংস্থাকে বাগানের দায়িত্ব দেওয়া হবে না। এ ব্যাপারে যেসব সংস্থা রাজি হবে, তাদেরকে সবরকমভাবে সহায়তা করবে সরকার। তাদেরকে রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হবে। তারা যাতে ব্যাংক থেকে ঋণ পায় সেই দিকটিও দেখা হবে।
একই সঙ্গে শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি ও পিএফ উদ্ধারেও জোর দেওয়া হয়েছে বলে জানান শ্রমমন্ত্রী। বলেন, বিগত সরকারের ভুল নীতির জেরে অনেক বাগান কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের মজুরি, পিএফের টাকা লুট করেছে বলে অভিযোগ। মাত্র সাড়ে তিন মাস ধরে চেষ্টা চালিয়ে পিএফের বকেয়া প্রায় ১০০ কোটি টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। আরও বকেয়া অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। বৃহস্পতিবার রাতেই একটি সংস্থা শ্রমিকদের পিএফের বকেয়া ৮০ হাজার টাকা প্রদান করেছে। ইতিমধ্যে দার্জিলিং পাহাড়, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ারে প্রায় ২৮টি সংস্থার বিরুদ্ধে এ ব্যাপারে এফআইআর করা হয়েছে।
বন্ধ ও সচল চা বাগানের যাবতীয় সমস্যা মেটাতে একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। বলেন, শ্রমদপ্তর, টি-বোর্ড, শিল্প ও বাণিজ্য এবং ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর ওই টাস্ক ফোর্সে রয়েছে। তারা বিভিন্ন সমস্যা মেটাতে কাজ করবে।