নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কুমোরটুলির মৃৎশিল্পীদের জন্য একটি অত্যাধুনিক ‘হাব ক্লাস্টার’ তৈরি করতে উদ্যোগী হল রাজ্য সরকার। এ ব্যাপারে একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরির জন্য তথ্যসংস্কৃতি দপ্তরের প্রধান সচিব সৌমিত্র মোহন চিঠি দিয়েছেন কেএমডিএর চিফ এগজিকিউটিভ অফিসার (সিইও)-কে। কেএমডিএকে এই প্রকল্পের নোডাল এজেন্সির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কীভাবে পরিকল্পনা রূপায়িত করতে হবে, তা বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে চিঠিতে। শিল্পীদের জন্য ৯-১০টি হাব বা ক্লাস্টার তৈরি করা হবে এখানে। উদ্যোগের নাম দেওয়া হয়েছে, ‘ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট অব কুমোরটুলি অ্যাজ অ্যান আইডল মেকিং অ্যান্ড কালচারাল হেরিটেজ ডিস্ট্রিক্ট’। প্রকল্পের জন্য কত খরচ হবে, তা উল্লেখ করা হয়নি চিঠিতে। প্রয়োজনীয় অর্থ রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সরকারের কোন তহবিল থেকে পাওয়া যেতে পারে, তা কেএমডিএকেই দেখতে বলা হয়েছে। দ্রুত এই প্রকল্প বাস্তবায়িত করতে বলা হয়েছে।
কুমোরটুলি মৃৎশিল্পী পাড়া সংলগ্ন গঙ্গার ঘাটক নতুন চেহারায় ঢেলে সাজার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বন্দর কর্তৃপক্ষ এই কাজ করার জন্য আদানি শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে চুক্তি করে। মৃৎশিল্পীদের প্রকল্পটি রূপায়িত হলে উত্তর কলকাতার এই ঐতিহ্যশালী এলাকা সার্বিকভাবে নতুন রূপ পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। কুমোরটুলিতে সরু গলির মধ্যে প্রচুর মৃৎশিল্পী প্রতিমা গড়ার কাজ করে আসছেন বছরের পর বছর।
বামফ্রন্ট সরকারের সময় এই মৃৎশিল্পী মহল্লার আধুনিকীরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন স্থানীয় সাংসদ প্রয়াত সুধাংশু শীল বিষয়টি নিয়ে তৎপর ছিলেন। তখনও কেএমডিএ-কে দিয়ে সেই কাজ করানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কেন্দ্রীয় সরকারের একটি তহবিল থেকে টাকাও আসে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নানা প্রতিকূলতার সেই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি।
এই অবস্থায় প্রথম থেকেই কুমোরটুলির শিল্পীদের সঙ্গে নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে হাঁটতে চাইছে রাজ্য। একটি সুসংহত মাস্টারপ্ল্যান ও বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট (ডিপিআর) তৈরি করতে বলা হয়েছে কেএমডিএ- কে। এখানকার মৃৎশিল্পীদের আর্থ-সামাজিক সমীক্ষা, পরিকাঠামো যাচাই, শিল্পীসহ অন্য যাঁরা এখানে কাজ করেন, তাঁদের চিহ্নিতকরণ, রাস্তাঘাটের অবস্থাসহ অন্যান্য সুযোগসুবিধা কী আছে— সবটাই পর্যালোচনা করা হবে। শিল্পী ও কর্মীদের আপডেটেড তালিকা তৈরি করতে বলা হয়েছে। শিল্পী, এলাকার বাসিন্দা, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এখানকার জন্য কী কী প্রয়োজন, সেগুলি চিহ্নিত করতে হবে। প্রস্তাবিত হাব তৈরির জন্য জিআইএস ভিত্তিক পরিকল্পনা তৈরি করতে বলা হয়েছে কেএমডিএ-কে। আগে এখানকার জন্য যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তাও খতিয়ে দেখা হবে। প্রথমে একটি পাইলট হাব তৈরি করতে হবে। তারপর সেই অনুযায়ী হবে বাকিগুলি।



