Bartaman Logo
৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

কেষ্টপুরে উপাসনালয়

কেষ্টপুরের মিশনবাজার। এলাকাটি খ্রিস্টানপাড়া নামেও পরিচিত। সেখানে ১৮২৯ সালে কয়েকজন মিলে তৈরি করলেন একটি গির্জা। নাম—ইমানুয়েল চার্চ। কীভাবে এই উপাসনালয়টি গড়ে উঠেছিল, তার কাহিনি লেখা রয়েছে চার্চে ঢোকার মুখে।

কেষ্টপুরে উপাসনালয়
  • ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
Prefer us on Google
কেষ্টপুরের মিশনবাজার। এলাকাটি খ্রিস্টানপাড়া নামেও পরিচিত। সেখানে ১৮২৯ সালে কয়েকজন মিলে তৈরি করলেন একটি গির্জা। নাম—ইমানুয়েল চার্চ।
Advertisement
কীভাবে এই উপাসনালয়টি গড়ে উঠেছিল, তার কাহিনি লেখা রয়েছে চার্চে ঢোকার মুখে। কয়েকশো বছর আগে বিদ্যাধরী নদী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ যাতায়াত করত। ১৮০৬ সালে প্রবল ঝড়বৃষ্টিতে বেশ কিছু জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এগুলির চালকরা ছিলেন হয় ইংরেজ, নয়তো ওলন্দাজ। ছ’টি জাহাজ কোনওরকমে কেষ্টপুরে এসে ঠাঁই নেয়। নির্জন জনপদে তখন স্থানীয় নমঃশূদ্র কিছু মৎসজীবীর বাস। ওলন্দাজ ও ইংরেজ জাহাজ চালকরা থেকেই গেলেন। স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁরা বন্যপ্রাণীর হাত থেকে রক্ষা পেতে তৈরি করলেন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র। বসতি স্থাপন হল খ্রিস্টানদের। কাল অতিবাহিত হতে থাকে। একদা এক ব্রাহ্মণ যুবকের সঙ্গে একটি পর্তুগীজ বালিকার হল ভাব। ওঁরা চলে গেলেন কাশী। বিয়ে করলেন। কেষ্টপুরে আবার ফিরলেন ১৮১৮ সালে। শুরু করলেন খ্রিস্ট ধর্মের প্রচার। তখন বর্ণহিন্দুদের অত্যাচার থেকে বাঁচতে, আশ্রয় পেতে নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ের মানুষরা এক আইরিশ পাদ্রীর কাছে আশ্রয় নিতে শুরু করেন। তাঁর হাতেই প্রতিষ্ঠা এই গির্জার। চার্চকে কেন্দ্র করে শিক্ষার প্রসার ঘটতে শুরু করল। কেষ্টপুরের এই গির্জায় বাংলায় প্রার্থনা হয়। বড়দিনে বাংলা ক্যারোল। কীর্তনের ঢঙে যিশুর আরাধনা। 
খ্রিস্টানপাড়ায় এ সময় প্রায় সবার ঘরের সামনের অংশ গোয়ালঘরের মতো করে সাজানো হয়। পুতুল দিয়ে সাজানো হয়েছে মেরির কোলে যিশু। বাড়িগুলিতে তৈরি হয় ফ্রুট, পাম বা রোজ কেক। পায়েস এবং পিঠেপুলিও হয়। ভিআইপি রোড থেকে ১২সি/২ বাস রুট নিউটাউন পর্যন্ত গিয়েছে। এই রাস্তাটি কেষ্টপুর মেইন রোড নামে পরিচিত। এই পথের মাঝামাঝি অংশে খ্রিস্টানপাড়া। রাস্তার উপরেই রয়েছে চার্চটি। শুধু এটাই নয়, এলাকায় আরও বেশ কয়েকটি চার্চ রয়েছে উপাসনার জন্য।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ