Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

কাশীপুর উদ্যানবাটি ও নরেন

কাশীপুর উদ্যানবাটি ও নরেন
  • ১৩ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
শ্রীরামকৃষ্ণ-স্বামী বিবেকানন্দের স্মৃতি বিজড়িত স্থানগুলির মধ্যে অন্যতম কাশীপুর উদ্যানবাটি। এর সঙ্গে জড়িয়ে অনেক ইতিহাস। এখানে বসেই রামকৃষ্ণদেবের কাছে রামমন্ত্রে দীক্ষা লাভ করেছিলেন তাঁর প্রিয় শিষ্য নরেন্দ্রনাথ। বিচরণ করেছিলেন উচ্চ আধ্যাত্মিক অনুভূতির জগতে। স্বামীজি প্রথম নির্বিকল্প সমাধি লাভ করেন এই উদ্যানবাটিতেই। সমাধিলব্ধ অনুভূতি থেকে রচনা করেছিলেন দু’টি গান। শুনিয়েছিলেন গুরুভাইদের। এখানে থাকাকালীনই স্বয়ং রামকৃষ্ণদেব একদিন বলেছিলেন ‘নরেন লোকশিক্ষে দিবে।’ ভবিষ্যতে যা ফলে গিয়েছিল অক্ষরে অক্ষরে।
Advertisement
রামকৃষ্ণ সঙ্ঘের সূতিকাগারও বলা যেতে পারে কাশীপুর উদ্যানবাটিকে। এখানে নরেন্দ্রনাথকে নিজের ঘরে ডেকে প্রতিদিন বিকেলে দু’-তিন ঘন্টা আধ্যাত্মিকতা, ভবিষ্যতের সঙ্ঘ গঠন ও তার পরিচালনা সম্বন্ধে উপদেশ দিতেন রামকৃষ্ণদেব। এখানেই মহাসমাধির তিন-চার দিন আগে গভীর ধ্যানযোগে নিজের সব সাধনালব্ধ শক্তি স্বামী বিবেকানন্দের মধ্যে সঞ্চার করেছিলেন তিনি। বলেছিলেন, ‘আজ তোকে সর্বস্ব দিয়ে ফকির হলুম। এই শক্তিবলে তুই মহাকাজ সাধন করবি।’ ফলে কাশীপুর উদ্যানবাটির গুরুত্ব এক কথায় অসীম। স্বামী বাগীশানন্দ দ্বারা প্রকাশিত  ‘কাশীপুর উদ্যানবাটি’ গ্রন্থে জানা যায়, এই স্থানে শ্রীরামকৃষ্ণদেব তাঁর বালক ভক্তদের সন্ন্যাসের জন্য প্রস্তুত করে ছিলেন। তাঁদেরকে তিনি মাঝেমধ্যে আশপাশের গ্ৰামে ভিক্ষার জন্য পাঠাতেন। তিনি বলতেন, ‘মাধুকরীর অন্ন পবিত্র।’ সেই ভিক্ষা অন্ন মাঝেমধ্যে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে  গ্রহণ করতেন। এই উদ্যানবাটিতে রামকৃষ্ণদেব তাঁর কয়েকজন ভক্তকে গেরুয়া বসন ও রুদ্রাক্ষ মালা প্রদান করেন। শ্রীরামকৃষ্ণদের কাছে ১২ জন শিষ্য প্রথম সন্ন্যাস গ্রহণ করেছিলেন। নরেন্দ্রনাথ ছাড়া অন্য শিষ্যরা হলেন রাখাল, বাবুরাম, নিরঞ্জন, যোগীন্দ্র, লাটু, তারক, বুড়ো গোপাল, কালী, শশী, শরৎ ও হুটকো গোপাল।
সম্পর্কিত সংবাদ