হাওড়ায় এক অনুষ্ঠানে গিয়েছেন প্রখ্যাত কার্টুন শিল্পী নারায়ণ দেবনাথ। অনুষ্ঠানের আগে মঞ্চের পাশে একটা জায়গায় বসে রয়েছেন তিনি। পাঁচ বছরের একটি শিশু হঠাৎ তাঁর সামনে এসে জিজ্ঞাসা করল, ‘বাঁটুলদা কি তোমার সঙ্গে আছে জেঠু?’ নারায়ণবাবু হেসে বললেন, ‘এই তো জামার পকেটে রেখে দিয়েছি।’ সে তখনই বাঁটুলকে দেখতে চায়। নারায়ণবাবু অনুষ্ঠানের এক কর্মকর্তার থেকে এক টুকরো কাগজ নিয়ে নিজের পকেটে থাকা পেন দিয়ে তাতে এঁকে দিলেন বাঁটুলের ছবি। শিশুটিকে সেটা দিয়ে বললেন বাড়িতে নিয়ে যেতে। কার্টুনের কাল্পনিক চরিত্রগুলো কখন যেন আপনজন হয়ে উঠেছে তাঁর তুলির টানে। শিশু মনে সুন্দর এক কল্পনার জগৎ উপহার দিয়েছিলেন শিল্পী নারায়ণ দেবনাথ। তাঁর আঁকা কার্টুন চরিত্রগুলোর কথা মনে করলে অনেকেই নস্টালজিক হয়ে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যে ফিরে যান শৈশবের দিনগুলিতে। তাঁর কার্টুনের জনপ্রিয়তার শুরু ১৯৬৫ সালে। ওই বছর দেব সাহিত্য কুটির প্রকাশনা সংস্থার শুকতারা পত্রিকায় বাঁটুল দি গ্রেট সিরিজ শুরু করেন। সুপারম্যানে প্রভাবিত হয়ে গোলাপি ও কালো—দুই রঙ দিয়ে সৃষ্টি করা তাঁর বাঁটুল চরিত্র ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ওই সিরিজে বাঁটুলের দুই ভাইপো ভজা এবং গজাও পাঠকের কাছে যেন পাশের বাড়ির দুই ছেলে হয়ে ওঠে। শুধু বাঁটুল দি গ্রেটই নয়, হাঁদা ভোঁদা, নন্টে-ফন্টে, তাঁর সৃষ্ট গোয়েন্দা চরিত্র কৌশিক রায়ও সমান জনপ্রিয়। তিনি শুধু কার্টুন চরিত্র সৃষ্টিই করেননি, বিভিন্ন লেখকের গল্প নিয়েও কার্টুন তৈরি করেছেন। যেমন দিলীপকুমার চট্টোপাধ্যায়ের রচিত গোয়েন্দা গল্প ইন্দ্রজিৎ রায় ও ব্ল্যাক ডায়মন্ড, হীরের টায়রা—সব গল্পই যেন তাঁর তুলির ছোঁয়ায় প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছিল। ১৯৮৩ সালে তিনি শুকতারা পত্রিকার প্রচ্ছদ করলেন ‘বাহাদুর বেড়াল’ নামে একটি চরিত্র নিয়ে। এই বাহাদুর বেড়ালকে এককথায় বলা চলে ‘স্মার্ট ক্যাট’। তিনি সুকুমার রায়ের আবোলতাবোল কবিতার সংকলন নিয়েও কার্টুন এঁকেছেন। নারায়ণ দেবনাথের জন্ম ১৯২৫ সালের ২৫ নভেম্বর।



