শুভঙ্কর বসু, কলকাতা: কথায় বলে কারও পৌষমাস, কারও সর্বনাশ! বীরভূমের সিউড়ির বাসিন্দা কেতাবুল শেখের অবস্থা খানিকটা তেমনই। ২০০৮ সালে তাঁর বাবা মোমিন শেখকে পিটিয়ে খুন করেছিল আট দুষ্কৃতী। তারপর নিম্ন আদালত থেকে হাইকোর্ট, সেখান থেকে সুপ্রিম কোর্ট। বহু মামলা মোকদ্দমা করে বাবার বিচার ছিনিয়ে আনতে পেরেছিলেন তিনি। আট দুষ্কৃতীরই যাবজ্জীবন সাজা হয়। কিন্তু বাধ সাধল ‘করোনা’। সেসময় বেশ কিছু বন্দিকে কিছুদিনের জন্য প্যারোলে ছাড়ার নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। সেই মতো মোমিন শেখ খুনে সাজাপ্রাপ্ত তিন বন্দি রফিকুল দফাদার, আবুল দফাদার ও নাসির হাসানকে প্যারোলে ছাড়া হয়। কিন্তু অভিযোগ, ২০২১ সালে ছাড়া পাওয়ার পর থেকেই বেমালুম বেপাত্তা দুই বন্দি রফিকুল ও নাসির! অথচ এব্যাপারে লিখিত অভিযোগ জানানোর পরও পুলিসের কোনও হেলদোল নেই। বাধ্য হয়ে তাই ফের হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন কেতাবুল।
Advertisement
বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে মামলার শুনানিতে কেতাবুলের আইনজীবী প্রসেনজিৎ মুখোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, ২০০৮ সালের খুনের পর প্রত্যক্ষদর্শী সহ মোট ১৯ জনের সাক্ষীর বয়ানের ভিত্তিতে মোট আটজনকে দোষী সাব্যস্ত করে রামপুরহাট আদালত। প্রত্যেকেরই যাবজ্জীবন সাজার নির্দেশ শোনায় আদালত। এরপর ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় সাজাপ্রাপ্তরা। দীর্ঘ শুনানির পর ২০১৭ সালে নিম্ন আদালতের নির্দেশ বহাল রেখে রায় ঘোষণা করে কলকাতা হাইকোর্ট। এবার হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে অভিযুক্তরা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলে তাদের আবেদন খারিজ হয়ে যায়। তারপর থেকে তারা সিউড়ি আদালতে বন্দিদশা কাটাচ্ছিল। করোনা কালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশমতো তিন বন্দিকে প্যারোলে ছাড়া হয়। এরপর শীর্ষ আদালত সমস্ত বন্দির প্যারোল বাতিল করলেও রফিকুল ও নাসির জেলে ফিরে যায়নি। ওই দুই বন্দি এখন কেতাবুলের পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ। যাবতীয় অভিযোগ শোনার পর বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ ওই দুই বন্দিকে জেলে ফেরাতে পুলিস কী পদক্ষেপ করেছে, তা জানতে চেয়েছেন। পাশাপাশি জেল কর্তৃপক্ষের কাছেও এব্যাপারে রিপোর্ট তলব করেছে আদালত। ৯ জানুয়ারি ফের মামলার শুনানি।



