শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করে তৈরি হয়েছিল স্কুলের নিজস্ব ভবন। রয়েছে পড়ুয়াদের জন্য শৌচাগারও। কিন্তু সেই স্কুলে এখন আর পড়াশোনা হয় না। সেটি হয়েছে গ্ৰামবাসীদের জ্বালানি রাখার জায়গা। মিড ডে মিলের রান্নাঘরে সংসার পেতেছে পাঁচ সদস্যের এক পরিবার। উম-পুন ঝড়ে ঘরছাড়া হওয়ার পর এটিই হয়েছে তাঁদের মাথা গোঁজার আস্তানা। স্কুলে না আছে পড়ুয়া, না আসেন শিক্ষকরা। দিনের পর দিন এভাবে চলতে থাকলেও হুঁশ নেই জেলা শিক্ষাদপ্তরের। খোঁজ নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলছেন দপ্তরের কর্তা। স্কুলটি রয়েছে দেগঙ্গায়। নাম উত্তর আবজানগর আর্দশ বিদ্যালয়।
Advertisement
১৯৮৫ সালে আবজানগর এলাকায় বেসরকারিভাবে চালু হয় পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত একটি স্কুল। বিভিন্ন দপ্তরে দরবার করার পর ২০০৭ সালে বাম আমলে এই স্কুলটি সরকারি স্বীকৃতি পায়। রয়েছেন সাতজন শিক্ষক ও তিনজন শিক্ষাকর্মী। সরকার স্কুলটিকে স্বীকৃতি দিলেও সরকারিভাবে তাঁদের বেতন ঠিক করা হয়নি। তারপরও কয়েক বছর ভালোভাবেই চলছিল এই স্কুল। কিন্তু শিক্ষাকর্মীরা আর না আসায় এই স্কুল বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। সর্বশিক্ষা মিশনের লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয়ে তৈরি হয় স্কুলের নিজস্ব দ্বিতল ভবন। রয়েছে ছ’টি কক্ষ। তারপরও দীর্ঘদিন ধরে গেটে তালা ঝুলছে। মরচেও ধরেছে তাতে। গেটজুড়ে আগাছার জঙ্গল। শ্রেণিকক্ষে থাকা বেঞ্চগুলি উল্টে পড়ে রয়েছে। তার উপর বেড়ে উঠছে বুনো গাছের চারা।
স্কুলের শৌচালয়গুলি হয়ে উঠেছে আশপাশের বাসিন্দাদের জ্বালানি কাঠ রাখার জায়গা। বন্ধ এই স্কুল চত্বরে অবাধে ঘুরে বেড়ায় হাঁস-মুরগি, পশুপাখি। এক সময় ৪০০ পড়ুয়ার রান্না যেখানে হতো, সেই রান্নাঘরে সংসার পেতেছে এক পরিবার। হাসনাবাদ-বারাসত রেল লাইনের ধারে এই স্কুলে এক সময় গমগম করত পড়ুয়াদের কোলাহলে। কিন্তু শিক্ষাকর্মীরা আসা বন্ধ করায় ধীরে ধীরে স্কুলটি উঠে যায়। সমস্যায় পড়ে পড়ুয়ারা। তাদের এখন সা-আট কিমি দূরে অন্য স্কুলে যেতে হয়। স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুল্লা মোল্লা বলেন, বাম আমলে স্কুলটি চালু হয়। ভালোই পড়াশোনা হতো। তৃণমূলের আমলে নতুন বিল্ডিংও তৈরি হয়। কিন্তু করোনা পর্বের পর কেন বন্ধ হল জানি না। আমরা চাই, আগের মতোই স্কুল চলুক। একই কথা বলছেন, দেবেশ দাস। তিনি বললেন, এই স্কুলে কেউ আসে না। শিক্ষকরাও আসেন না। বিষয়টি শিক্ষাদপ্তরের নজরে আসা দরকার। স্কুলে বসবাস করা নজরুল মণ্ডল বলেন, উম-পুনের সময় বাড়ি ভেঙে যাওয়ায় তিন ছেলে, মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে এখানে আছি।
ডিআই (সেকেন্ডারি) বাদল পাত্র এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। স্কুলের প্রধান শিক্ষক মহম্মদ খলিলউল্লাহ মণ্ডল বলেন, কত দিন আর বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করব বলুন। তাই আমরা স্কুলে যাই না। স্থানীয়রা বলছেন, এতদিন ধরে স্কুল বন্ধ, অথচ শিক্ষাদপ্তর কিছুই জানে না, এটা বিশ্বাস হয় না। নিজস্ব চিত্র
স্কুলের শৌচালয়গুলি হয়ে উঠেছে আশপাশের বাসিন্দাদের জ্বালানি কাঠ রাখার জায়গা। বন্ধ এই স্কুল চত্বরে অবাধে ঘুরে বেড়ায় হাঁস-মুরগি, পশুপাখি। এক সময় ৪০০ পড়ুয়ার রান্না যেখানে হতো, সেই রান্নাঘরে সংসার পেতেছে এক পরিবার। হাসনাবাদ-বারাসত রেল লাইনের ধারে এই স্কুলে এক সময় গমগম করত পড়ুয়াদের কোলাহলে। কিন্তু শিক্ষাকর্মীরা আসা বন্ধ করায় ধীরে ধীরে স্কুলটি উঠে যায়। সমস্যায় পড়ে পড়ুয়ারা। তাদের এখন সা-আট কিমি দূরে অন্য স্কুলে যেতে হয়। স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুল্লা মোল্লা বলেন, বাম আমলে স্কুলটি চালু হয়। ভালোই পড়াশোনা হতো। তৃণমূলের আমলে নতুন বিল্ডিংও তৈরি হয়। কিন্তু করোনা পর্বের পর কেন বন্ধ হল জানি না। আমরা চাই, আগের মতোই স্কুল চলুক। একই কথা বলছেন, দেবেশ দাস। তিনি বললেন, এই স্কুলে কেউ আসে না। শিক্ষকরাও আসেন না। বিষয়টি শিক্ষাদপ্তরের নজরে আসা দরকার। স্কুলে বসবাস করা নজরুল মণ্ডল বলেন, উম-পুনের সময় বাড়ি ভেঙে যাওয়ায় তিন ছেলে, মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে এখানে আছি।
ডিআই (সেকেন্ডারি) বাদল পাত্র এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। স্কুলের প্রধান শিক্ষক মহম্মদ খলিলউল্লাহ মণ্ডল বলেন, কত দিন আর বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করব বলুন। তাই আমরা স্কুলে যাই না। স্থানীয়রা বলছেন, এতদিন ধরে স্কুল বন্ধ, অথচ শিক্ষাদপ্তর কিছুই জানে না, এটা বিশ্বাস হয় না। নিজস্ব চিত্র



