চেন্নাই: কর্মক্ষেত্রে যে কোনও অবাঞ্ছিত ব্যবহার, এমনকী জোর করে করমর্দনও যৌন হেনস্তার আওতায় আসতে পারে। একটি মামলার শুনানি চলাকালীন এমনই মন্তব্য করল মাদ্রাজ হাইকোর্ট। বিচারপতি আর এন মঞ্জুলার সিঙ্গল বেঞ্চ জানিয়েছে, কর্মক্ষেত্রে যৌন হেনস্তা প্রতিরোধ সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী, কোনও মহিলার প্রতি কেমন ‘ব্যবহার’ করা হয়েছে, তার থেকেও সেই ‘ব্যবহার’-এর ‘উদ্দেশ্য’ কী ছিল, সেদিকে বেশি নজর দেওয়া প্রয়োজন। এক্ষেত্রে মহিলার অনুভূতিকে গুরুত্ব দিতে হবে। তাহলেই এই আইন শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
Advertisement
চেন্নাইয়ে একটি বহুজাতিক প্রযুক্তি সংস্থার সার্ভিস ডেলিভারি ম্যানেজারের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ তুলেছিলেন তিন মহিলা কর্মী। তাঁরা জানিয়েছিলেন, ওই ডেলিভারি ম্যানেজার তাঁদের কাঁধ স্পর্শ করতেন ও জোর করে করমর্দন করতেন। কাজের সময় শরীর ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকতেন। এছাড়া ওই মহিলা কর্মীদের অস্বস্তিকর প্রশ্নও করতেন ওই ব্যক্তি। ওই সংস্থার ইন্টার্নাল কমপ্লেন্টস কমিটি (বিশাখা কমিটি) ওই অভিযোগের সারবত্তা খুঁজে পায়। ওই ব্যক্তিকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। কিন্তু কমিটি যে সব প্রস্তাব করেছিল, তা খারিজ করে দেয় চেন্নাইয়ের শ্রম আদালত। ওই ম্যানেজার দাবি করেছিলেন, পদাধিকার বলেই তিনি ওই মহিলাদের কাজের উপর নজর রাখতেন। যৌন হেনস্তার উদ্দেশ্য ছিল না। নিজের দাবির সপক্ষে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষার কথাও বলেছিলেন। শ্রম আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে
হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় ওই বহুজাতিক প্রযুক্তি সংস্থা। সেই মামলার শুনানির সময়ই শ্রম আদালতের নির্দেশ খারিজ করে দিয়েছে মাদ্রাজ হাইকোর্ট।
বিচারপতি মঞ্জুলা জানিয়েছেন, উদ্দেশ্য যাই হোক না কেন, যদি কোনও মহিলা মনে করেন তাঁর সঙ্গে অবাঞ্ছিত ব্যবহার করা হচ্ছে, তাহলে তা কর্মক্ষেত্রে যৌন হেনস্তা। এই প্রসঙ্গে ১৯৯৮ সালে আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের প্রসঙ্গও তুলে ধরেছেন তিনি। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ প্রসঙ্গে হাইকোর্টের মন্তব্য, অভিযুক্ত ব্যক্তি স্বীকার করেছেন যে, তিনি মহিলাদের খুব কাছে গিয়ে দাঁড়াতেন। কিন্তু তাঁর উদ্দেশ্য কী ছিল, তা সিসি ক্যামেরার ফুটেজের মাধ্যমে প্রমাণ বা খারিজ করা সম্ভব নয়।
হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় ওই বহুজাতিক প্রযুক্তি সংস্থা। সেই মামলার শুনানির সময়ই শ্রম আদালতের নির্দেশ খারিজ করে দিয়েছে মাদ্রাজ হাইকোর্ট।
বিচারপতি মঞ্জুলা জানিয়েছেন, উদ্দেশ্য যাই হোক না কেন, যদি কোনও মহিলা মনে করেন তাঁর সঙ্গে অবাঞ্ছিত ব্যবহার করা হচ্ছে, তাহলে তা কর্মক্ষেত্রে যৌন হেনস্তা। এই প্রসঙ্গে ১৯৯৮ সালে আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের প্রসঙ্গও তুলে ধরেছেন তিনি। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ প্রসঙ্গে হাইকোর্টের মন্তব্য, অভিযুক্ত ব্যক্তি স্বীকার করেছেন যে, তিনি মহিলাদের খুব কাছে গিয়ে দাঁড়াতেন। কিন্তু তাঁর উদ্দেশ্য কী ছিল, তা সিসি ক্যামেরার ফুটেজের মাধ্যমে প্রমাণ বা খারিজ করা সম্ভব নয়।



