Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কেরল ঘোরার জন্য অফিসের ৬১ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ‘নাটক’, গ্রেপ্তার যুবক

কেরল ঘোরার জন্য অফিসের ৬১ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ‘নাটক’, গ্রেপ্তার যুবক
  • ৯ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দক্ষিণ ভারত বিশেষ করে কেরল ট্যুরের শখ তাঁর দীর্ঘদিনের। সেই শখ মেটাতে হলে টাকার দরকার। কিন্তু অত টাকা তাঁর কাছে নেই। তাহলে উপায়? শেষমেশ অফিসের টাকা ‘ছিনতাই’ হওয়ার গল্প ফেঁদে বেড়ানোর কৌশল এঁটেছিলেন ওই কর্মচারী। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। অভিযুক্ত হিমাদ্রি দাস এখন কারাগারে বন্দি। এই ব্যক্তি একটি লজিস্টিক সংস্থার কর্মী। অফিস থেকে ৬১ হাজার টাকা নিয়ে তাঁর এক জায়গায় যাওয়ার কথা ছিল। ওই টাকা ‘ছিনতাই’ হয়েছে বলে নাটক সাজিয়ে হাপিশ করার তালে ছিলেন হিমাদ্রি। লালবাজার জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে গোয়েন্দা বিভাগের ওয়াচ শাখা বৃহস্পতিবার অভিযুক্তের বাড়ি থেকে চুরি যাওয়া ৪০ হাজার টাকা উদ্ধার টাকা করেছে। 
Advertisement
পুলিস সূত্রে খবর, গত সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ হিমাদ্রি বউবাজার থানার দ্বারস্থ হন। বলেন, চাঁদনি মার্কেটের কাছে একটি লজিস্টিক কোম্পানিতে চাকরি করেন তিনি। একটি কালো রঙের ব্যাকপ্যাকে অফিসের ৬১ হাজার টাকা ছিল। ওই ব্যাগ নিয়ে বাসে ওঠেন তিনি। কিন্তু, ধর্মতলার কাছে পৌঁছতেই দেখেন ব্যাগের নীচের অংশ কাটা। শুধু তাই নয়, ওই টাকাও গায়েব। টাকা উদ্ধারের জন্য পুলিসি সহায়তা চান তিনি। সাধারণত সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের উপর বিশেষত চাঁদনি থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত বাসে পকেটমাররা ‘অপারেট’ করে না। অস্বাভাবিক অভিযোগ পাওয়ায় কেসটি লালবাজারের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের জানান থানার অফিসাররা। এরপর তদন্তভার গ্রহণ করে গোয়েন্দা বিভাগের ওয়াচ শাখা। 
চাঁদনি মার্কেট সংলগ্ন যে জায়গা থেকে বাস ধরেছেন বলে অভিযোগকারী দাবি করেছিলেন, সেই এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখতে শুরু করেন তদন্তকারীরা। সেখানেই খটকা লাগে। হিমাদ্রি যে সময়ের কথা বলেছেন, সেই সময়ে কোনও ক্যামেরার ফুটেজেই তাঁকে দেখা যায়নি। এরপর ধর্মতলা চত্বরেও একই ছবি পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে সন্দেহ হওয়ায় হিমাদ্রির ব্যাগটি খতিয়ে পরীক্ষা করেন গোয়েন্দারা। তাঁরা দেখেন, ব্যাগটি অতি যত্নে কাটা হয়েছে। যা ভিড় বাসে সম্ভব নয়। সন্দেহ দৃঢ় হতেই অভিযোগকারীকে জেরা করতে শুরু করেন দুঁদে গোয়েন্দারা। প্রাথমিকভাবে হিমাদ্রি কিছুতেই মানতে চাইছিলেন না। দীর্ঘ ৩০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর কার্যত ভেঙে পড়েন বেসরকারি সংস্থার এই কর্মচারী। লালবাজারের দাবি, শেষমেশ পুলিসের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়ে অভিযোগকারী বলেছেন, তিনিই টাকা সরিয়েছেন। সোমবার সকালে অফিস থেকে ৬১ হাজার টাকা নিয়ে সোজা বাড়ি চলে যান তিনি। ব্যাগ থেকে টাকা বের করে সব্জি কাটার ছুরি দিয়ে নিখুঁতভাবে ব্যাগের নীচের অংশ কাটেন হিমাদ্রি। যাতে পুলিস ভাবে, সত্যিই ব্যাগ কেটে টাকা হাতিয়েছে দুষ্কৃতীরা। এরপর সোজা বউবাজার থানায় চলে যান অভিযোগ জানাতে। সূত্রের খবর, দীর্ঘদিন ধরে কেরল ঘোরার জন্য প্ল্যান করছিলেন অভিযুক্ত। কিন্তু, বেতন বাবদ যে টাকা তিনি পেতেন, তা নিজের খরচ মেটানোর পর বেড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। সেকারণেই এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন ‘গুণধর’।
সম্পর্কিত সংবাদ