Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তৃণমূলের থেকে মুখ ফিরিয়েছে কৃষ্ণনগর শহর, বিধানসভা ভোটে ২৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৪টিতে পরাজিত ঘাসফুল

তৃণমূলের থেকে মুখ ফিরিয়েছে কৃষ্ণনগর শহর।

তৃণমূলের থেকে মুখ ফিরিয়েছে কৃষ্ণনগর শহর, বিধানসভা ভোটে ২৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৪টিতে পরাজিত ঘাসফুল
  • ৮ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: তৃণমূলের থেকে মুখ ফিরিয়েছে কৃষ্ণনগর শহর।ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভার অন্তর্গত কৃষ্ণনগর শহরের ২৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৪টি ওয়ার্ডেই পরাজিত হয়েছে তারা। শহরেই ঘাসফুল শিবির পিছিয়ে রয়েছে ৪১ হাজারের বেশি ভোটে। যদিও কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভায় বিজেপির জয়ের ব্যবধান প্রায় ৮০ হাজারের কাছাকাছি। যা ঐতিহাসিক বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারণ চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনেই কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল ৫৩ হাজার ভোটে পরাজিত হয়েছিল। বিগত দু’বছরে সেই ব্যবধান আরও বেড়েছে। যার ফলে কৃষ্ণনগর শহরসহ উত্তর বিধানসভাতে কার্যত মুছে গিয়েছে তৃণমূল। রাজনৈতিক মহলের কটাক্ষ, দলীয় গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে শহরের মানুষকে চরম হেনস্তা করার খেসারত দিতে হয়েছে ঘাসফুল শিবিরকে। সেইসঙ্গে রয়েছে তৃণমূল নেতাদের সীমাহীন ঔদ্ধত্য,যা ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে বলেই মনে করছেন অনেকে। 

Advertisement

গত লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে রেকর্ড মার্জিনে পিছিয়ে গিয়েছিল ঘাসফুল শিবির। বিগত দু’ বছরের সেই জমি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করার বদলে, তৃণমূল নেতারানিজেদের মধ্যে আকচা আকচিতেই ব্যস্ত ছিল। যার জেরে কৃষ্ণনগর পুরসভায় নাগরিক পরিষেবা টানা ছ’মাস বন্ধ ছিল। তৃণমূল কাউন্সিলাররা একে অপরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিল। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে প্রশাসক বসিয়ে ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা করলেও তা কার্যকর হয়নি। তারউপর ভোটের আগেই কৃষ্ণনগর পুরসভায় কয়েকশো কর্মীকে ‘ভূতুড়ে কর্মীর’ নামে বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাতেও তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের মদত, পরিবর্তীতে প্রকাশ্যে আসে। রাজনৈতিক মহলের দাবি, এর ফলে শহরবাসীর মধ্যেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হয়েছিল।
নির্বাচনের ফলাফল বেরোনো পর দেখা যায়,শহরের তাবড় নেতারা নিজের ওয়ার্ডে পরাজিত হয়েছেন।কৃষ্ণনগর শহরের তৃণমূল ৪১ হাজার ৫৯০ ভোটেপিছিয়ে।শহরে তৃণমূল পেয়েছে মাত্র ২৫ হাজার ২২৮ ভোট। অন্যদিকে বিজেপি পেয়েছে ৬৬ হাজার ৮১৮ ভোট। কৃষ্ণনগরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সর্বাধিক ৩ হাজার লিড পেয়েছে বিজেপি। ২ নম্বর ওয়ার্ডে ২৯৩০, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ২৮৬১, ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ২০০২, ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ২৫২৬, ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ২৬৩৫, ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ২০৮৯, ১০ নম্বর ওয়ার্ডে ২০৮৯, ১১ নম্বর ওয়ার্ডে ২৩৯১, ১২ নম্বর ওয়ার্ডে ১৭৮১, ১৩ নম্বর ১৪৫১ ভোটে হেরেছে তৃণমূল। 
কৃষ্ণনগর সহ তৃণমূল সভাপতি সুমাল্য ঘোষ জানিয়েছেন এই বিষয়টি দল পর্যালোচনা করে দেখবে। অন্যদিকে কৃষ্ণনগর শহরের বিজেপির প্রাক্তন কাউন্সিলার বর্ণালী গুইন দত্ত বলেন, তৃণমূলের নেতারা শহরের মানুষের সঙ্গে যে দুর্ব্যবহার এবং হয়রান করছে তাঁর জবাব মানুষ দিয়েছেন‌। সীমাহীন দুর্নীতি, মানুষের কাজ কেড়ে নেওয়ার ফল পেয়েছে তৃণমূল। শহরের মানুষ তৃণমূলকে প্রত্যাখান করেছেন।
কৃষ্ণনগর শহর ছাড়াও পাঁচটি পঞ্চায়েত রয়েছে এই বিধানসভায়। সমগ্র কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভায় বিজেপি জয়ী হয়েছে ৭৮ হাজার ৩৬১ ভোটে।বিজেপি প্রার্থী তারক চট্টোপাধ্যায় পেয়েছেন ১ লক্ষ ৩৩ হাজার ২১১ ভোট এবং তৃণমূল প্রার্থী সোমনাথ দত্ত পেয়েছেন মাত্র ৫৪ হাজার ৮৫০ ভোট। 
বিজেপি নেত্রী হিরন্ময়ী সরকার বলেন, মানুষ তৃণমূলকে উৎখাত করার লক্ষ্যেই ভোট দিয়েছেন। উত্তর বিধানসভার মানুষ বিজেপির উন্নয়নে শামিল হওয়ার পক্ষে রায় দিয়েছেন।

সম্পর্কিত সংবাদ